
সবুজনগর ডেস্ক: কোভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রকল্পে চিকিৎসা সামগ্রী ও সেবা ক্রয়ে অনিয়ম এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ (২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) দুদক প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, কোভিড-১৯ ইআরপিপি (ERPP) প্রকল্পের আওতায় ৬টি প্যাকেজে কেনাকাটায় চরম অনিয়ম হয়েছে। কেএন৯৫ ও এন৯৫ মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হাসপাতালের বেড, সার্জিক্যাল সামগ্রী, টিভিসি প্রচার, মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনসহ নানা পণ্য ও সেবা ক্রয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা এবং পরস্পর যোগসাজশের মাধ্যমে মোট ১২ কোটি ৩ লাখ ২৭ হাজার ৯৮৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
ছয়টি মামলার বিবরণ:
প্রথম মামলা: ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকা আত্মসাৎ।
দ্বিতীয় মামলা: ১ কোটি ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ।
তৃতীয় মামলা: ৯৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা আত্মসাৎ।
চতুর্থ মামলা: ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭০ টাকা আত্মসাৎ।
পঞ্চম মামলা: ২ কোটি ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৫ টাকা ৫০ পয়সা আত্মসাৎ।
ষষ্ঠ মামলা: ৩ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা: সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ছাড়াও এই মামলাগুলোতে অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন—
কোভিড-১৯ ইআরপিপি প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. ইকবাল কবির
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা ঝোরা
সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
দুদক সচিব জানান, দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১২০(বি) ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অপরাধ নথিভুক্ত করে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে।#