
মোঃ মুক্তাদির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার এক দফা দাবিতে দেশের প্রধান প্রধান পোশাক শিল্পাঞ্চলগুলোতে টানা পঞ্চম দিনের মতো তীব্র বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কর্মবিরতি পালন করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দেশের বৃহত্তম শিল্পাঞ্চল গাজীপুরসহ সাভার ও আশুলিয়ার পরিবেশ ছিল থমথমে ও সংঘাতময়।
সকাল হতে না হতেই বিভিন্ন পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক কাজ বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমে আসেন। তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে একাধিক স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও শিল্প পুলিশকে দফায় দফায় সাউন্ড গ্রেনেড ও বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের (টিয়ারশেল) শেল নিক্ষেপ করতে হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মুহূর্তের মধ্যে পুরো শিল্প এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
শিল্পাঞ্চলগুলোর দিনভর সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি (সাবেক র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন/র্যাব) এবং ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংবেদনশীল কারখানাগুলোর সামনে সাজোয়া যান নিয়ে বিজিবি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।
ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা:
এদিকে, চলমান এই শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংস আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তড়িঘড়ি করে জরুরি বৈঠকে বসে নবগঠিত পোশাক খাতের নিম্নতম মজুরি বোর্ড। নির্ধারিত সময়ের আগেই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক সভা শুরু হয়।
দীর্ঘ বৈঠক শেষে মজুরি বোর্ডের সদস্য ও শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার সাংবাদিকদের জানান, চলমান অসন্তোষ নিরসনে মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষই একটি সমন্বিত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন বেতন কাঠামোয় মজুরি যত টাকাই পুনঃনির্ধারণ করা হোক না কেন, তা চলতি বছরের পহেলা ডিসেম্বর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর ধরা হবে। অর্থাৎ, শ্রমিকরা তাদের নতুন কাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত বেতন আগামী বছর ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের শুরুতেই হাতে পাবেন।
মজুরি বোর্ডের এই ঘোষণার পরও মাঠপর্যায়ের আন্দোলনরত শ্রমিকদের মধ্যে এখনো মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বহু কারখানায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সার্বিক পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।#