
শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ায় নিহত সাবেক চেয়ারম্যানের নামে সরকারি চাল উত্তোলনের নথি প্রকাশ ও খাদ্যশস্য বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরের দিকে দুদক কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি আভিযানিক দল দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে এই তল্লাশি পরিচালনা করে। অভিযানে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির খাদ্যশস্য বিতরণসংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। অনুসন্ধানে চাল বরাদ্দের মূল নথিতে একাধিক গুরুতর অসংগতি ও জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা।
দুদক সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ভিজিডি (VGD) কার্ডধারীদের জন্য বরাদ্দ করা চালের বিতরণ রেজিস্টার যাচাই করতে গিয়ে সাবেক মৃত চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টুর নামে চাল বরাদ্দের তথ্য উন্মোচিত হয়। নথিতে দেখা যায়, নঈম উদ্দিন সেন্টুর নামে গত ১৩ অক্টোবর ১০৭ বস্তা (৩ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন) চাল গ্রহণের তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দুর্বৃত্তদের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টু। মৃত্যুর প্রায় দুই বছর পর নথিতে কীভাবে মৃত চেয়ারম্যানের নাম যুক্ত হলো এবং চাল বরাদ্দ দেখানো হলো, তা নিয়ে চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযানের সময় নথিতে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর না থাকায় বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হককে তলব করে দুদক। পরে ভিজিডি চালের কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে গিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যানও এই জটিলতার মুখোমুখি হন।
এ বিষয়ে ফিলিপনগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক জানান, দুদকের তলবে নথিতে স্বাক্ষর করতে গিয়ে তিনি মৃত চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টুর নাম দেখতে পান। তবে নথিতে নিহত সেন্টুর নাম কীভাবে যুক্ত করা হলো, সে বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অবিদিত বলে দাবি করেন।
এদিকে দুদকের কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদের নেতৃত্বে দুপুর সোয়া ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খাদ্যগুদামে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় খাদ্যশস্য বিতরণ, মজুদ ও সংরক্ষণসংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়।
এর আগে খাদ্যগুদাম থেকে চাল বিতরণে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দৌলতপুর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম রেজাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আল ওয়াজিউর রহমান জানান, চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনিক নির্দেশে সেলিম রেজাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিস্তারিত তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুদক কুষ্টিয়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদ জানান, বিভিন্ন অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে তদন্ত চালানো হয়েছে। নথিপত্র যাচাইয়ে ফিলিপনগর ইউনিয়নে মৃত চেয়ারম্যানের নাম ব্যবহার করে চাল বরাদ্দের অসংগতি পাওয়া গেছে। তাছাড়া প্রাপ্তিস্বীকারপত্রে প্যানেল চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে চাল অন্য একজন তুলে নিয়ে গেছেন বলে তথ্য মিলেছে। দুদক আরও নথিপত্র তলব করেছে এবং পুরো চক্রটিকে চিহ্নিত করতে অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রাখা হয়েছে।#