
আহত শ্রমিক
মোঃ মুক্তাদির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরের কালীগঞ্জে জমিসংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে মামুন মিয়া (৪১) নামের এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় হামলাকারীরা দোকান থেকে তেল বিক্রির নগদ প্রায় ৯৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর স্ত্রী রাশিদা বেগম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চৌতার পাড়া গ্রামের মো. মামুন মিয়া পেশায় একজন ব্যবসায়ী। কালীগঞ্জ থানাধীন মূলগাঁও বাইপাস মূলগাঁও দাখিল মাদ্রাসার সামনে তাঁর একটি তেলের দোকান রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৭টার দিকে প্রধান অভিযুক্ত আমজাদ হোসেনসহ অন্যান্য বিবাদীরা মামুনের দোকানে এসে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমিজমাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তর্কে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটির জেরে প্রধান অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং তাঁর হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে ব্যবসায়ী মামুনের মাথায় সজোরে আঘাত করে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করেন।
এ সময় অন্য বিবাদীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে তাঁকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন, ফলে মামুন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এই সুযোগে মূল অভিযুক্ত ক্যাশ বাক্স ভেঙে তেল বিক্রির নগদ ৯৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে স্থানীয় এক অজ্ঞাতনামা অটোচালক রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার শের-ই-বাংলা নগরের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল’-এ রেফার্ড করেন।
আহত ব্যবসায়ীর পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করা এবং রোগীর উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় লাগায় থানায় মামলা বা অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে বলে জানান বাদী। বর্তমানে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী ও আক্রমণাত্মক প্রকৃতির হওয়ায় পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।#