
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, রাজশাহী: রাজশাহীর পবা উপজেলায় মিশ্র ফলবাগান এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে বস্তায় আদা চাষ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) সকাল ৯টা ১৫ মিনিট থেকে ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর দামকুড়া থানাধীন হরিপুর ইউনিয়নের কসবা এলাকায় এ পরিদর্শন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী স্থানীয় সফল কৃষক মো. নাজমুল করিম সুজনের লিচুবাগানে সমন্বিত পদ্ধতিতে বস্তায় আদা চাষের আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। উক্ত বাগানে প্রায় ৭০০টি বস্তায় সফলভাবে আদার চাষ করা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী কৃষক নাজমুল করিম সুজনের সঙ্গে বস্তায় আদা চাষের নিয়ম, উৎপাদন খরচ, বাজারজাতকরণ ও লাভজনক দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, “প্রচলিত সনাতন কৃষির পাশাপাশি আধুনিক ও সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে। একই জমি ও কৃষি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে ফলবাগানের খালি জায়গায় বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন কৃষকের বাড়তি আয়ের পথ সুগম হবে, অন্যদিকে দেশের কৃষি উৎপাদনও বহুমুখী হবে।”
কৃষিমন্ত্রী এ ধরনের প্রশংসনীয় ও উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং সমন্বিত আধুনিক কৃষি কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কৃষকদের নতুন নতুন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার ওপর জোর তাগিদ দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান, রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোস্তফা কামাল, পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদি হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিনসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

পরিদর্শন কর্মসূচি শেষে কৃষিমন্ত্রী কসবা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যান। সেখানে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং কিছু সময় কাটান।
স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তাদের মতে, ফলবাগানের ফাঁকা জায়গায় বস্তায় আদা চাষের মতো বহুমুখী কৃষি উদ্যোগ কৃষকদের অতিরিক্ত আর্থিক স্বচ্ছলতা এনে দিচ্ছে। এ ধরনের আধুনিক পদ্ধতির বহুল প্রচার ও বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি অর্থনীতি আরও মজবুত হবে।#