
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, ফসল নষ্ট ও প্রাণনাশের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে নিজ বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. রাকিব।
লিখিত বক্তব্যে মো. রাকিব জানান, রাজশাহীর পবা উপজেলার বর্তমান দামকুড়া থানাধীন হরিপুর মৌজায় তাঁর দাদা বিভিন্ন সময়ে বৈধ দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। ১৯৭২ সালের ২১ জুলাই মো. এমাজ উদ্দীন সাহার কাছ থেকে ৩ দশমিক ০৩ একর এবং ১৯৮৩ সালের ১৬ মার্চ আমিরুদ্দিনের কাছ থেকে ৬৪ শতক জমি কেনেন তাঁর দাদা। এ ছাড়া গোদাগাড়ী ও চর মাজারদিয়ারসহ বিভিন্ন মৌজায় তাঁদের পরিবারের আরও সম্পত্তি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আদালতের আদেশ অমান্য করে হামলার অভিযোগ
মো. রাকিব অভিযোগ করেন, দাদার মৃত্যুর পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী আত্মীয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দলিল তৈরি করে জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব জাল দলিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রাজশাহীর পবা দেওয়ানি আদালতে ১৫০২/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত মামলায় আদালত জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
কিন্তু আদালতের এই নির্দেশ অমান্য করে প্রতিপক্ষ বিরোধ অব্যাহত রাখে। ইমন, বিলকিস, নাসিমা ও জোসনা বেগমসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে তাঁদের পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁর চাচা মো. আব্দুর রাজ্জাককে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এছাড়া আয়েশা বেগমকে মারধর এবং নাফসার আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ করেন তিনি। হামলাকারীরা তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর, জমিতে বপন করা কালাই ফসল ট্রাক্টর দিয়ে নষ্ট এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
থানায় মামলা ও পুলিশের বক্তব্য
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ঘটনায় গত ২৩ অক্টোবর মো. সাইদুর রহমান বাদী হয়ে আরএমপির দামকুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর পুলিশ শুরুতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলেও গত ৪ নভেম্বর (বুধবার) মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়, যার মামলা নম্বর-০২।
এ বিষয়ে দামকুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জমি নিয়ে বিরোধের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, কথিত জাল দলিল যাচাই-বাছাই, হামলা ও ভাঙচুরে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং পরিবারের সদস্যদের জীবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।#