
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন: মাদকের ভয়াবহ ছোবলে তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদক যদি যুবসমাজকে গ্রাস করে, তবে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। তাই মাদকের বিস্তার ও অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও সমন্বয়বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পুরো পরিবার ও সমাজকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরা আজ মাদকের কারণে কঠিন সংকটের মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় দেশের বিদ্যমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ওই অঞ্চলে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং প্রধান প্রধান রিফাইনারিতে ড্রোন হামলার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং একধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় এশিয়া-প্যাসিফিক, আসিয়ান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত জ্বালানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট সামাল দিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সৌরবিদ্যুৎই হতে পারে সংকট উত্তরণের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি স্থাপনের মাধ্যমে সহজেই প্রতিটি ঘরে সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এতে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।
জ্বালানি খাতে সরকারি খরচের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, গত আট মাসে জ্বালানি আমদানিতে সরকারকে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে, যা জনগণের করের টাকা। দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার প্রসারিত হলে জ্বালানি আমদানি হ্রাস পাবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমবে। সাশ্রয়কৃত এই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতগুলোতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “বেশি বেশি সোলার লাগান, কম কম বিদেশের ওপর নির্ভর করুন”—এ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রকৃতির অফুরন্ত সূর্যালোককে কাজে লাগিয়ে দেশে এক নতুন সৌরবিদ্যুৎ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির এবং রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ।
এছাড়াও সভায় রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), আরএমপির থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ (ওসি) এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।#