1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
ডাকাতির প্রকোপে দিশেহারা ভোলার চরাঞ্চলের মহিষ খামারীরা     রাসিক প্রশাসক এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎবগুড়া জেলা সমিতির প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে অবশেষে মনপুরা-চরফ্যাশনের তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ হচ্ছে মির্জাপুরে ডাকাতি চেষ্টাকালে গণপিটুনিতে ডাকাতের মৃত্যু চরফ্যাশন ইউএনওর ব্যাতিক্রমী দৃস্টান্ত, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিলেন খাল খননের অবশিষ্ট ১ কোটি ২ লাখ টাকা  রাসিক প্রশাসকের আসাম কলোনী বায়তুল আমান জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় ও ১৮নং ওয়ার্ডের আসাম কলোনী এলাকা পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার স্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, রাজশাহীতে গ্রেফতার ১ রাতের অন্ধকারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, ৭ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ মির্জাপুরে সনাতনী যুবক অনিক কর্মকারের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ শিবগঞ্জে দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাত দলের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

রাষ্ট্র, নাগরিক অধিকার ও বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি: একটি সংকটময় বাস্তবতা

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ১৭৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

_ ড. মোঃ আমিনুল ইসলাম৥

​ভূমিকা ​একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো তার জনগণ এবং রাষ্ট্রের সাথে নাগরিকদের আস্থার সম্পর্ক। সংবিধান অনুযায়ী, জনগণের অধিকার রক্ষা এবং তাদের মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। তবে সাম্প্রতিক বাংলাদেশে একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—যেখানে নাগরিকরা তাদের ন্যায্য দাবি বা জীবনযাত্রার অধিকার নিয়ে রাজপথে নামলেই রাষ্ট্রযন্ত্রের তরফ থেকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে কঠোর বলপ্রয়োগের। জলকামান, পিপার স্প্রে, শব্দবোমা এবং লাঠিপেটার মতো সরঞ্জাম যেন এখন সাধারণ নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রীয় আচরণের স্বাভাবিক রূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নিবন্ধে আমরা দেখার চেষ্টা করব কীভাবে নাগরিকের ক্ষোভ ও দাবির বিপরীতে এই ‘বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি’ আমাদের মানবিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ​

পেশাজীবী ও শ্রমজীবীর সংগ্রাম: অধিকার বনাম দমন ​শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারণ চাকুরিজীবী—প্রত্যেকেই যখন তাদের ন্যায্য দাবি বা বেতন কাঠামোর দাবিতে রাজপথে নামেন, তখন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের কথা শোনার চেয়ে দমানোর প্রবণতা অনেক বেশি প্রকট।

শিক্ষক সমাজ: শিক্ষকরা জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু যখন তারা তাদের অবহেলিত দাবি নিয়ে মাঠে নামেন, তখন তাদের লাঠিপেটা বা পিপার স্প্রে ব্যবহারের দৃশ্য কেবল সংবেদনশীলতার অভাবই নয়, বরং সামাজিক অবক্ষয়ের একটি বড় লক্ষণ।

​পে-স্কেল ও অর্থনৈতিক দাবি: প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে থাকা পে-স্কেল বা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে যখন সাধারণ কর্মজীবীরা আন্দোলন করেন, তখন তাদের বিরুদ্ধে জলকামান ব্যবহারের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি নির্দেশ করে যে, সমস্যা সমাধানের চেয়ে কণ্ঠরোধ করাকে রাষ্ট্র অনেক ক্ষেত্রে সহজ পথ হিসেবে বেছে নিচ্ছে। ​

আমানতকারীর আর্তনাদ: নিজের টাকা তুলতে গিয়ে প্রতিপক্ষ যখন রাষ্ট্র ​ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট সাধারণ মানুষের জীবনে এক অবর্ণনীয় দুর্দশা ডেকে এনেছে। ব্যাংকিং খাত অর্থনীতির জীবনীশক্তি, যার মূল উৎস সাধারণ মানুষের সঞ্চয়। একজন আমানতকারী যখন তার জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকে জমা রাখেন, তিনি ব্যাংকের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থা রাখেন। কিন্তু আজ সেই আস্থার জায়গাটি চরম সংকটের মুখে।

​অসহায়ত্বের চূড়ান্ত পর্যায়: নিজের টাকা তুলতে গিয়ে যখন গ্রাহক শোনেন যে ব্যাংক টাকা দিতে অক্ষম, তখন তার অসহায়ত্ব চরমে পৌঁছায়। অসুস্থতার ব্যয়, সন্তানের শিক্ষা বা দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য জমানো টাকাটি যখন আর নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না, তখন নাগরিক চরম সংকটে পড়েন।

​টাকার বদলে পুলিশের আঘাত: এই অসহায় পরিস্থিতির শিকার হয়ে যখন আমানতকারীরা ব্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে একটু উত্তরের অপেক্ষায় থাকেন, তখন তাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে জলকামান ও লাঠিপেটার। যে নাগরিক তার নিজের টাকা ফিরে পাওয়ার জন্য ব্যাংকে যান, তাকেই পুলিশের প্রতিপক্ষের কাতারে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং চরম অমানবিক একটি চিত্র। যখন ব্যাংক আমানতকারীর টাকা দিতে ব্যর্থ হয় এবং উল্টো রাষ্ট্রযন্ত্র তার ওপর শক্তি প্রয়োগ করে, তখন তা পুরো আর্থিক খাতের ওপর জনগণের আস্থা ধূলিসাৎ করে দেয়। ​বলপ্রয়োগের রাজনীতি ও সংবিধানে নাগরিক অধিকার ​বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকের সমাবেশের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এর প্রয়োগ যেন উল্টো চিত্র প্রকাশ করে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, পুলিশের দায়িত্ব হলো শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কিন্তু যখন পুলিশকে কেবল রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা আড়ালের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন তা আইনের শাসনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং বলপ্রয়োগের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়, তা যেকোনো সুস্থ আলোচনার পথ রুদ্ধ করে দেয়। ​

উপসংহার: ​পরিশেষে বলা যায়, একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রধান শর্ত হলো জনগণের সাথে রাষ্ট্রের আস্থার সম্পর্ক। পুলিশের জলকামান, পিপার স্প্রে কিংবা লাঠিপেটা কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। বরং এ ধরনের পদক্ষেপ নাগরিকের হৃদয়ে ক্ষোভের সঞ্চার করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি তাদের বিশ্বাস কমিয়ে দেয়। দাবি আদায় করা জনগণের নাগরিক অধিকার, আর সেই দাবিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। রাষ্ট্রের উচিত বলপ্রয়োগের পথ পরিহার করে আলোচনার টেবিলে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। কারণ, জলকামান দিয়ে সাময়িকভাবে রাজপথ খালি করা সম্ভব হলেও, জনগণের হৃদয়ে জমে থাকা ক্ষোভকে দমানো সম্ভব নয়!#

… ​লেখক একজন শিক্ষক কবি গবেষক ও প্রাবন্ধিক

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট