1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
  3. saykotrajshahi2@gmail.com : Shazaman :
তানোরে এক যুগ ধরে একে অপরকে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাইকর ও খেজুর গাছ - দৈনিক সবুজ নগর
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
না জানিয়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সৌদি সরকারকে চিঠি পাঠাল ঢাকা একাদশে ভর্তির শেষ ধাপের আবেদন ২৬ ও ২৭ অক্টোবর সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রুখতে দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর আহ্বান রুহুল কবির রিজভীর সিদ্ধিরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক স্থায়ী বহিষ্কার বাঘায় ৪৭ বোতল নিষিদ্ধ ইস্কাফ সিরাপসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার, স্বামী পলাতক দুর্গাপূজা ঘিরে ৩ স্তরের নিরাপত্তা ও সাইবার নজরদারি বাড়াল এসআরবি-৬ পোরশায় শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করলেন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আরিফুল ইসলাম নাচোলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুঃস্থ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে এমপি সানজিদা ইয়াসমিন তুলির শাড়ি বিতরণ শ্যামনগরে আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত রূপসায় ‘লোক কৃষ্টি’ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

তানোরে এক যুগ ধরে একে অপরকে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাইকর ও খেজুর গাছ

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬
  • ২২৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

# হামিদুররহমান, তানোর, রাজশাহী প্রতিনিধি : প্রকৃতির বুকে কত বিচিত্র ঘটনা যে লুকিয়ে আছে, তার সবকিছু হয়তো মানুষের জানা সম্ভব নয়। তেমনি এক বিস্ময়কর দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে আছে রাজশাহীর তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের চৌরখের গ্রামের ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ির পেছনের একটি গাছ। সেখানে একটি পাইকর গাছের মাঝখানে জন্ম নেওয়া একটি খেজুর গাছ প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একে অপরকে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গাছ দুটির মধ্যে কোনো বিরূপ প্রভাব দেখা যায়নি। বরং এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য এখন এলাকার মানুষের কাছে কৌতূহল ও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বহু বছর আগে পাইকর গাছটির কাণ্ডের একটি ফাঁকা অংশে স্বাভাবিকভাবে একটি খেজুর গাছের চারা জন্ম নেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চারাটি বড় হতে হতে আজ একটি পূর্ণাঙ্গ খেজুর গাছে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে খেজুর গাছটি পাইকর গাছকে আঁকড়ে ধরে আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, দুটি গাছ যেন একে অপরকে আলিঙ্গন করে আছে।

Open photo

চৌরখের গ্রামের জমিদার বাড়ির বড় ছেলে সাদেকুন নাবি চৌধুরী জানান, “আমি প্রায় এক যুগ ধরে গাছ দুটিকে দেখে আসছি। পাইকর গাছের ওপর জন্ম নেওয়া খেজুর গাছটি ধীরে ধীরে বড় হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই খেজুর গাছ থেকে প্রতিবছর শীত মৌসুমে আমরা নিয়মিত রস সংগ্রহ করি। অন্য সাধারণ খেজুর গাছের মতোই এটি ভালো রস দেয়। গাছ দুটির মধ্যে কোনো সমস্যা বা ক্ষতির লক্ষণ কখনো দেখা যায়নি। জমিদার বাড়ির দ্বিতীয় ছেলে খাদেমুন নাবি চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যতিক্রমী গাছটি আমাদের বাড়ির পেছনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে আসছে। অনেকেই বিভিন্ন সময় গাছটি কাটার পরামর্শ দিলেও আমরা তা হতে দিইনি। কারণ এটি শুধু একটি গাছ নয়, প্রকৃতির এক অসাধারণ নিদর্শন। গাছটির কারণেই বাড়ির পেছনের পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠেছে।

অপরদিকে জমিদার বাড়ির তৃতীয় ছেলে মেরাজুন নাবি চৌধুরী বলেন, “আমি রাজশাহীতে বসবাস করি। তবে গ্রামে এলেই গাছটির খোঁজখবর নিই। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে গাছটি দেখে আসছি। প্রতিবার দেখলে আমার কাছে নতুন করে ভালো লাগে। গাছটির সৌন্দর্য এতটাই অনন্য যে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এটি দেখতে আসে। অনেকেই ছবি তোলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকৃতির এই অপূর্ব সৃষ্টি দেখতে প্রতিদিনই নানা বয়সী মানুষ সেখানে ভিড় করেন। কেউ কৌতূহলবশত আসেন, আবার কেউ প্রকৃতির এই ব্যতিক্রমী রূপ ক্যামেরাবন্দি করতে আসেন। বিশেষ করে শীতকালে খেজুরের রস সংগ্রহের সময় গাছটির প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।পরিবেশপ্রেমীদের মতে, এমন ঘটনা প্রকৃতিতে খুবই বিরল। একটি গাছের শরীরে অন্য একটি গাছ জন্ম নিয়ে দীর্ঘদিন টিকে থাকা প্রকৃতির অভিযোজন ক্ষমতা এবং জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য উদাহরণ। এ ধরনের গাছ সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, চৌরখের গ্রামের এই ব্যতিক্রমী পাইকর-খেজুর গাছকে কেন্দ্র করে একটি ছোট পর্যটন আকর্ষণ গড়ে তোলা সম্ভব। যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে এটি তানোর উপজেলার একটি পরিচিত দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে। প্রকৃতির এই নীরব ভালোবাসার গল্প যেন এক অনন্য বার্তা বহন করে—ভিন্নতা কখনো দূরত্ব সৃষ্টি করে না, বরং একে অপরকে ধারণ করেই সৌন্দর্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পাশাপাশি বেড়ে ওঠা পাইকর ও খেজুর গাছ আজ সেই অনন্য সৌন্দর্যেরই জীবন্ত সাক্ষী।#

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট