
একটি প্রতীকী ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি, বাঘা (রাজশাহী): রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দিঘা পশ্চিমপাড়া গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগে এক যুবককে গণধোলাই ও আটকের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ধামাচাপা ও রফা-দফার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড় ৭টার দিকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিঘা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত সাদেক আলীর ছেলে ইমদাদুল হক মিলন (৪০)-কে একই গ্রামের এক দিনমজুরের স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় তার ঘরেই আটক করে স্থানীয়রা। ওই সময় গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। অভিযুক্ত মিলন একটি কীটনাশক কোম্পানিতে কর্মরত বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে সন্দেহজনকভাবে মিলনকে ওই বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে তা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মাতব্বর ও বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালানো হয়। হাতে-নাতে ধরে আটকে রাখার ঘটনায় শামীম ও সোহেল নামে দুই যুবকের নাম এলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মুনজু সরকার বলেন, “পারিবারিক লোকজন ও গ্রাম্য মাতব্বররা আপসের জন্য বসেছিল, আমি সেখান থেকে চলে এসেছি।”
এদিকে বিষয়টি মিটমাটের উদ্যোগে বাউসা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে গুঞ্জন উঠলেও তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক তরুণ জানান, ঘটনা জানার পর তারা সেখানে গেলে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং কোনো আইনি পদক্ষেপে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এ নিয়ে বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক জানান, “বিষয়টিতে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ জানায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#