1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
​পবিত্র ঈদুল ফিতর: আত্মশুদ্ধি, সাম্য ও পরম আনন্দের মহোৎসব ঈদ মোবারক: তাহেরপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, আব্দুল মান্নান প্রাং তাহেরপুর পৌরসভার সর্বস্তরের জনসাধারণকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, সাবেক মেয়র আ ন ম সামসুর রহমান মিন্টু ,ঈদ মোবারক……… বিষাদে পরিনত হলো ঈদের আনন্দ কেনা জামা পরা হলো কলেজ ছাত্রীর বাঘার ইদগাহে অন্যতম বড় ঈদ জামাত জামায়াতে শরীক হবেন সংসদ সদস্য চাঁদ ঢাকাসহ সারাদেশের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন নেহেরিন মোস্তফা (দিসি) সৌদির সাথে মিল রেখে শিবগঞ্জে কিছু কিছু এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় ঈদের আনন্দে সম্প্রীতির বার্তা: শিবগঞ্জ ও শ্যামপুরবাসীকে আলমগীর জুয়েলের আন্তরিক শুভেচ্ছা শিবগঞ্জে আবারো সড়ক দূর্ঘটনা, নিহত ১ শিশু, আহত  ৬ ডিজির নির্দেশে ঈশ্বরদীর ইক্ষু গবেষণাগারে গুড় উৎপাদন ও অনিয়মের অভিযোগ

​পবিত্র ঈদুল ফিতর: আত্মশুদ্ধি, সাম্য ও পরম আনন্দের মহোৎসব

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

____ড. মোঃ আমিনুল ইসলাম ৥

​ভূমিকা: ​’ঈদ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ খুশি, আনন্দ বা বারবার ফিরে আসা। আর ‘ফিতর’ মানে রোজা ভাঙা বা ইফতার করা। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের পহেলা তারিখে মুসলিম উম্মাহ যে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে, তাকেই বলা হয় ঈদুল ফিতর। এটি কেবল পার্থিব কোনো উৎসব নয়, বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিন বান্দাদের জন্য এক অনন্য আধ্যাত্মিক পুরস্কার। এই দিনটি মুসলিম হৃদয়ে বয়ে আনে অনাবিল প্রশান্তি, ভ্রাতৃত্ব এবং ত্যাগের এক মহান বার্তা। ​ঐতিহাসিক পটভূমি ​ইসলামি ইতিহাসে ঈদুল ফিতরের সূচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর দেখলেন, সেখানকার মানুষ বছরে দুটি নির্দিষ্ট দিনে নানা প্রকার খেলাধুলা ও আমোদ-প্রমোদ করছে। তখন তিনি ঘোষণা করলেন: ​”আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে ওই দিনগুলোর পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম দুটি দিন (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা) দান করেছেন।” (সুনানে আবু দাউদ)। দ্বিতীয় হিজরিতে বদর যুদ্ধে বিজয়ের পর মুসলমানরা প্রথমবারের মতো এই পবিত্র উৎসব পালন করার সৌভাগ্য লাভ করেন। ​ধর্মীয় গুরুত্ব ও ইবাদত ​ঈদুল ফিতরের দিনটি মূলত ইবাদত ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। ঈদের সকালে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর আনুগত্যের শপথ নবায়ন করে। হাদিসে এসেছে, ঈদের রাতে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের বলেন— “আমার যেসব বান্দা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব (রোজা) পালন করেছে, আজ আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম।”

​তাকওয়া অর্জন: রমজানের এক মাস যে সংযম ও ধৈর্য মুমিন ব্যক্তি পালন করে, ঈদুল ফিতর সেই ধৈর্যের সুফল বা ‘সার্টিফিকেট’ স্বরূপ।

​কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: আল-কুরআনে এরশাদ হয়েছে— “যাতে তোমরা গণনা পূর্ণ করো এবং আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো এজন্য যে, তিনি তোমাদের পথ দেখিয়েছেন এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।” (সূরা বাকারা: ১৮৫)। ​সামাজিক ও মানবিক দিক: সদকাতুল ফিতর ​ঈদুল ফিতরের একটি অপরিহার্য অংশ হলো ‘সদকাতুল ফিতর’ বা ফিতরা। এটি ঈদের নামাজের আগেই অভাবী মানুষকে প্রদান করা ওয়াজিব। এর গুরুত্ব দুটি বিশেষ কারণে অত্যন্ত গভীর: ​

রোজার পূর্ণতা: রোজা পালনকালে যদি কোনো অনর্থক কাজ বা ভুলত্রুটি হয়ে থাকে, তবে ফিতরা প্রদানের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ হয়। ​

দরিদ্রের অধিকার: সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন ঈদের দিন অভুক্ত না থাকে এবং আনন্দের অংশীদার হতে পারে, তা নিশ্চিত করা। এটি ইসলামের একটি বলিষ্ঠ অর্থনৈতিক সাম্যবাদী পদক্ষেপ। ​ঈদুল ফিতরের আদব ও সুন্নত ​ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দিতে সুন্নাহসম্মত কিছু নিয়ম বা আদব রয়েছে, যা পালন করা সওয়াবের কাজ: ​সুন্দরভাবে গোসল করা এবং সাধ্যমতো পরিষ্কার বা নতুন পোশাক পরিধান করা। ​সুগন্ধি ব্যবহার করা। ​ঈদের নামাজের আগে বেজোড় সংখ্যক খেজুর বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া। ​ঈদের মাঠে যাওয়ার সময় এবং আসার সময় নিচু স্বরে ‘তাকবির’ পাঠ করা। ​এক পথে ঈদগাহে যাওয়া এবং অন্য পথে ফিরে আসা। ​সামাজিক সংহতি ও ভ্রাতৃত্ব ​ঈদুল ফিতর আমাদের শেখায় যে, আনন্দ একা ভোগ করার বিষয় নয়।

ঈদের জামাতে ধনী-দরিদ্র, উচ্চ-নীচ নির্বিশেষে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে। নামাজের পর একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় (ঈদ মুবারক) করার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ ধুয়ে মুছে যায়। আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া এবং আপ্যায়নের মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়। ​বর্তমান প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক প্রভাব ​বর্তমান আধুনিক বিশ্বে ঈদুল ফিতর কেবল ধর্মীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। নতুন পোশাক ক্রয়, উপহার বিনিময় এবং ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ ও শহরকেন্দ্রীক অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার হয়। তবে এই আনন্দের আতিশয্যে যেন অপচয় না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখাও ইসলামের শিক্ষা।

​উপসংহার ​পরিশেষে বলা যায়, ঈদুল ফিতর হলো ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে নিজেকে নতুন করে গড়ার শপথ। রমজানের এক মাসের প্রশিক্ষণ যদি আমরা পরবর্তী এগারো মাস আমাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারি, তবেই ঈদের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সুন্দর, শান্তিময়, সহমর্মিতা ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণই হোক ঈদুল ফিতরের চিরন্তন অঙ্গীকার।#

​লেখক একজন শিক্ষক কবি গবেষক ও প্রাবন্ধিক

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট