
মোমিনুর রহমান, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালী এ. করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক এক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (০৭ নভেম্বর ২০২৬) সুন্দরবন কোয়ালিশনের ‘লোকালিটি লিড ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন ইন দি বাংলাদেশ কোস্টাল রিজিয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়ন করে সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস্)। এছাড়া Sharetrust-এর অর্থায়নে এবং আভাস (AVAS)-এর সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তায় এ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
4বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার (সামস্) নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশেক বিল্লাহ, আমিনুর রহমান ও মো. নাজমুল হুদা, সহকারী শিক্ষিকা প্রতিভা রানী, সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার ফাইন্যান্স ও অ্যাডমিন অফিসার তাপস কুমার সরদার, প্রোগ্রাম অফিসার অনুপ কুমার মুন্ডা, বিশিষ্ট সামাজিক কর্মী মোমিনুর রহমান, হৈমন্তী কুমার, মনিকা সরকার প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, “আগামী দিনের উপকূলকে রক্ষা করতে হলে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে আরও সচেতন করে তুলতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং প্লাস্টিক বর্জন করতে হবে।”
তিনি বর্তমান সমাজের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বিশেষ করে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, “বাল্যবিবাহ বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমাদের প্রতি আমাদের আহ্বান—‘আঠারোর নিচে বিয়ে নয়, আঠারোর নিচে বই-খাতা হাতে নিয়ে স্কুলে যেতে হবে।’ নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা করতে হবে, যার প্রতিটি উদ্যোগ হবে পরিবেশবান্ধব।”

প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার ঝুঁকি, পরিবেশগত সংকট এবং সুন্দরবনের অস্তিত্বের হুমকি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
এ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি সৃজনশীল বিষয় নির্ধারণ করা হয়—‘দুর্যোগ-পরবর্তী দৃশ্য’, ‘সুন্দরবনের চিত্র’ এবং ‘ভবিষ্যতে কেমন পৃথিবী দেখতে চাই’। শিক্ষার্থীরা এসব বিষয়ের মাধ্যমে নিজেদের কল্পনায় পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশা ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলে।#