মোঃ নুরুজ্জামান নুর, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে প্রতিবারের মত এবারও বাদামের প্রচুর আবাদ হয়েছে। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় খরতাপে মরে যাচ্ছে বাদামগাছ।বাড়তি খরচ করে সেচ দিতে হচ্ছে শত শত বিঘা চরের জমির বাদাম। এতে ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।
এদিকে খরার কারণে বাদাম উৎপাদন কমার আশঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাদাম চাষিরা। বোদা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উঁচু এবং চরের মধ্যে শতাধিক বিঘা জমিতে চিনাবাদাম রোপণ করা হয়েছে। সেই বাদামের জমির অধিকাংশ বাদাম গাছ রোদের তাপে জড়ো লেগে যাচ্ছে। ফলে জমিতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বাদাম গাছ।
মাড়েয়া ইউনিয়নের কৃষক আসাদ মনোয়ার হোসেন জানান, গত বছর তিনি এক একর জমিতে বাদাম চাষ করেন। ভালো ফলন হওয়ায় এবার করেছেন দুই একর জমিতে। কিন্তু বৃষ্টি না আসায় প্রায় ক্ষেতের অধিকাংশ বাদামগাছ রোদে পুড়ে গেছে। লাভের পরিবর্তে এবার লোকসান গুনতে হবে।
কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের, গোফিপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম জানান, তারা দুই ভাই মিলে ৩০ শতাংশ জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার টাকা।এমনিতেই এ বছর শুকনো মাটির কারণে ৩০% বাদাম গজাতে পারেনি। তার উপর বৃষ্টির অভাবে বাকি বাদাম গাছ গুলোও শুকিয়ে বাদাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বাদাম ব্যবসায়ি রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়,গত ৫ বছর যাবৎ বাদামের দাম বেশি থাকায় মানুষ বাদাম চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে।আমি নিজেও ৫ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি, বিঘায় (৩৩) শতকে প্রায় ১০/১২ মন বাদাম পাওয়া যায়। প্রতিমণ বাদাম ৩৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।কিন্তু এবছর অনাবৃষ্টিতে বাদ গাছ জ্বলে যাচ্ছে,আমরা সেচের সাহায্যে পানি দিয়ে গাছ গুলো বাচানোর চেষ্টা করছি।এতে গাছ গুলো বাঁচলেও বাদামের তেমন একটা ফলন পাওয়া যাবে না,বাদামের ফলন দিলেও বৃষ্টির অভাবে আর রোদের তাপে চিটার পরিমাণ বেড়ে যাবে।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক এর সাথে কথা বলে জানা যায়, যে পরিমাণ সারের দাম তার উপর সেচের একটা বারতি খরচ দিয়ে এবছর আর বাদামে লাভের মুখ দেখা যাবে না মনে হয়।
বোদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুন নবী (UAO) বলেন,এ খরার কারণে বাদামগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে,কিছুদিন আগে চিন্তায় ছিলাম বাদাম গজানো নিয়ে। এটা প্রাকৃতিক বিষয়। বৃষ্টির পানির বিকল্প নেই। বৃষ্টি না হওয়ায় সৃষ্ঠ খরার কারণে এবার ফলন কম হতে পারে।আমরা কৃষকদের সতর্ক করে যাচ্ছি ১৬ তারিখ পর্যন্ত এই আবহাওয়া থাকতে পারে। #