
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাগমারায় আইনগতভাবে লিজ নেওয়া গাওড়া বিল মৎস্য চাষ প্রকল্প ভন্ডুল করার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে লিজ গ্রহীতা বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তর থেকেও অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত গাওড়া বিলটি উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ১৪৮ নম্বর মৌজার চাঁইপাড়া গ্রামে অবস্থিত। পুরো বিলটি বাগমারা উপজেলার অন্তর্গত হলেও বিলটির পাড় পার্শ্ববর্তী গোপালপুর গ্রাম দুর্গাপুর উপজেলার মধ্যে পড়েছে। প্রায় ১৭ একর আয়তনের এই বিলের ৩ একর জমি চাঁইপাড়া স্কুলের উন্নতিকল্পে এবং বাকি অংশ প্রজা সাধারণের নিকট থেকে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ হতে ৯ বছরের জন্য শর্ত সাপেক্ষে লিজ গ্রহণ করেন তাহেরপুর পৌর এলাকার খয়রমহল্লার মৃত গফুর সরকারের ছেলে আঃ ওহাব। তবে স্কুলের সাথে চুক্তিটি ৩ বছরের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
জানা যায়, এর আগে বিলটিতে মৎস্য চাষ করতেন দুর্গাপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত মেছের আলীর ছেলে রেজাউল করিম রেজা এবং তাঁর ভাই আনোয়ার হোসেন রকেট। রেজাউল করিম রেজা দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও নওপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। নিয়ম অনুযায়ী আঃ ওহাব লিজ গ্রহণ করায় রেজা চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও প্রকাশ, শুরু থেকেই রেজা চেয়ারম্যান গাওড়া বিল মৎস্য চাষ প্রকল্প ভন্ডুল করার জন্য নানা কূটকৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি বিলে মৎস্য চাষ করতে হলে আকারে-ইঙ্গিতে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে রেজা চেয়ারম্যান যখন এই বিলে মৎস্য চাষ করতেন, তখন শ্রীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি (নিষিদ্ধ ঘোষিত) ও সাবেক চেয়ারম্যান মকবুল মৃধা জোরপূর্বক তা দখল করে নেন। সে সময় রেজা চেয়ারম্যানের ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই অন্য কেউ লিজ পাক—সেটি তিনি মেনে নিতে পারছেন না।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রেজাউল করিম রেজার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গাওড়া বিলে তাঁর পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে প্রায় ২ বিঘা জমি রয়েছে। লিজ গ্রহীতা ওহাবকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “টাকা থাকলেই আমার বাড়ীর কাছে তাঁকে আসতে হবে।” সব কৃষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ লিজ দিলেও তিনি তাঁর জমি লিজ দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। জলমহাল আইনে জমির প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করলে কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি তো কিছু করিনি। ইচ্ছে করলে এক তুড়িতে ওদের খেদাতে পারি। আমি সব কিছু পর্যবেক্ষণ করছি।”
এদিকে লিজ গ্রহীতা আঃ ওহাব সরকার ও তাঁর সহযোগীরা সুষ্ঠুভাবে মৎস্য চাষ পরিচালনা এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।#