
প্রতিবেদক: সাব্বির আলম বাবু: ভোলা জেলায় বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিললেও বিগত দুই যুগেও গড়ে ওঠেনি কোনো কাঙ্ক্ষিত শিল্প-কারখানা। ভোলার তিনটি ক্ষেত্রের ৯টি কূপে গ্যাসের বিপুল মজুত থাকা সত্ত্বেও সময়োপযোগী দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাবে গত তিন দশকে এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বিগত সরকারের আমলে গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা, ইকোনমিক জোন, সার কারখানা ও ইপিজেড তৈরির একাধিক আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। তবে সম্প্রতি জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোলাতে একটি আধুনিক ‘শিল্পপার্ক’ গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়ার পর দ্বীপজেলার ২০ লাখ মানুষের মাঝে নতুন করে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে:
১৯৯৫ সালে ভোলার বোরহানউদ্দিনে বাপেক্স কর্তৃক শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়, যেখানে প্রায় ২ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস মজুদ রয়েছে।
২০০৯ সালে বাণিজ্যিক উত্তোলন শুরুর পর বর্তমানে এ ক্ষেত্র থেকে দৈনিক ১২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের ক্ষমতা রয়েছে, যার মধ্যে ব্যবহার শেষে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উদ্বৃত্ত থেকে যায়।
এছাড়া ২০১৮ সালে ভোলা নর্থ এবং ২০২৩ সালে আবিষ্কৃত ইলিশা-১ ক্ষেত্র দুটি থেকে এখনও বাণিজ্যিক উত্তোলন শুরু হয়নি।
সারাদেশে যখন তীব্র জ্বালানি সংকট, তখন ভোলায় বিপুল গ্যাস অলস ফেলে রাখা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
ভূমি সিন্ডিকেট দমনের দাবি:
স্থানীয় কলেজ শিক্ষক মো. জুয়েল জানান, “বিগত ১৭ বছর ধরে শুধু আশ্বাসই পেয়েছি। উদ্যোক্তারা এলে স্থানীয় একটি বিশেষ সিন্ডিকেট জমির দাম বাড়িয়ে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এই শিল্পপার্ক ঘোষণার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সেই সিন্ডিকেট কঠোর হাতে দমন করতে হবে।”
স্থানীয়ভাবে শিল্পায়নের তাগিদ:
ভোলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর বলেন:
“গ্যাস শুধু বরিশাল নিতেই বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ হবে। এত ব্যয় না করে ভোলাতেই শিল্পায়ন গড়ে তোলা যুক্তিযুক্ত। এতে সার কারখানা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণাগার, ইপিজেড ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।”
কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ভোলা জেলা সভাপতি মো. সোলাইমান এবং প্রবীণ ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, ভোলায় শিল্পের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও উন্নয়নের সূচকে জেলাটি পিছিয়ে আছে।
ভোলার উন্নয়ন ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার প্রসঙ্গে ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামিম রহমান বলেন:
“গ্যাসভিত্তিক উন্নয়ন ভোলাবাসীর প্রাণের দাবি। ক্ষুদ্র ও ভারী ইন্ডাস্ট্রি করার উপযোগী জায়গা চিহ্নিতকরণসহ জমি বরাদ্দের প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে।#