
মোহা: সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: এশিয়ার বৃহত্তম কানসাট আম বাজারের সময় দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। যা অচিরেই একটি পূর্ণাঙ্গ বারোমাসি বাজারে পরিণত হতে চলেছে। প্রতিবছর সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসের দিকে আমের মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও, চলতি বছর অক্টোবর মাসের শেষের দিকেও রীতিমতো জমে উঠেছে কানসাটের আমের হাট। আম চাষিরা বলছেন, এখন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সঠিক পরিচর্যার ফলে বছরে কমপক্ষে তিনবার আম ধরা সম্ভব হচ্ছে, যার কারণে বারো মাসই আম কেনাবেচা হচ্ছে এবং চাষিরাও পাচ্ছেন সর্বোচ্চ দাম।
জমজমাট এই বাজারে গোমস্তাপুর থেকে কল্যাণভোগ ও কানিমন আম নিয়ে এসেছেন তরুণ উদ্যোক্তা আকবর আলি। পড়াশোনা শেষ করে চাকুরির পেছনে না ছুটে ১৬ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন এবং আরও আড়াই লাখ টাকার আম বিক্রির আশা করছেন। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় তার এই সাফল্যে স্থানীয় তরুণদের মধ্যেও উৎসাহ বাড়ছে।
অন্যদিকে ভবানীপুরের আম চাষি আব্দুল করিম ৫ মণ আশ্বিনা আম নিয়ে বাজারে এসেছেন। মণপ্রতি ১০ হাজার থেকে সাড়ে ১০ হাজার টাকা দাম হাঁকছেন তিনি। তার মতে, সঠিক পরিচর্যা করলে বছরে তিনবার আশ্বিনা আমও ঘরে তোলা সম্ভব। এছাড়া শিবগঞ্জের টিটো ৩৫ বিঘা জমিতে প্রথমবার কাটিমন আমের চাষ করে ভালো সাড়া পেয়েছেন। তিনি প্রতিমণ কাটিমন আম ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন।
আম উৎপাদনে কৃষকদের কিছু অভিযোগ রয়েছে। ডিএপি (DAP) সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সারের সংকটের কারণে মাঝে মাঝে আম চাষ ব্যাহত হয় বলে জানান চাষিরা।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নয়ন মিয়া বলেন:
“কাটিমন আম বারো মাসই হচ্ছে এবং কল্যাণভোগ আমও একইভাবে চাষ করা হচ্ছে। তবে আশ্বিনা আম সময়ের ব্যবধানে দীর্ঘদিন পাওয়া গেলেও পুরোপুরি বারো মাস পাওয়া যায় না। বর্তমানে আম উৎপাদনে উত্তরবঙ্গের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে শিবগঞ্জ। আম চাষ ও ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হওয়ার হার দিন দিন বাড়ছে। প্রতিটি চাষীর সাথে আমাদের ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি অফিসাররা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।”