1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
রাসিক প্রশাসকের সাথে নারী উদ্যোক্তা সমাজ কল্যাণ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন দই, মিষ্টি ও ঘি বিক্রেতাকে জরিমানা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎ এর লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন,বিঘ্ন ঘটছে কৃষি   ও কলকারখানাতেও রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রী অপহরণ-হত্যাচেষ্টার মামলা: ১৭ দিনেও গ্রেফতার নন অভিযুক্ত রাজশাহীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করতে এসে জনতার হাতে ধরা   মির্জাপুরে এক নারীর সঙ্গে আলতাব হোসেনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখার ঘটনায় চাকরি থেকে বরখাস্ত রাজশাহীতে পাঁচ দিনব্যাপী রাজশাহীর উদ্যোক্তা মেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত জুলাই বিপ্লবী রাজশাহীর শহীদ রায়হান-সাকিব হত্যার বিচার দুই বছরেও হয়নি, নেই মামলার ভাল অগ্রগতি লালপুরে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটক ২

​দাম্পত্য সুখের মূল ভিত্তি: ইসলামের দৃষ্টিতে ‘কুফু’ বা সমতা

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১২৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

__ ড. মোঃ আমিনুল ইসলাম

​ভূমিকা: ​বিবাহ কেবল একটি সামাজিক বন্ধন নয়, বরং এটি একটি পবিত্র ইবাদত এবং প্রশান্তিময় জীবনের প্রবেশদ্বার। একটি সার্থক ও সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানসিক ও আদর্শিক মিল থাকা অপরিহার্য। ইসলাম এই সামঞ্জস্য বা সমতাকে ‘কুফু’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বর্তমানে সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো বিয়ের আগে কুফু বা জীবনসঙ্গীর সাথে যোগ্যতার সমতা বিচার না করা। ​’কুফু’ এর পরিচয় ও শরিয়তের নির্দেশনা ​’কুফু’ একটি আরবি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ হলো সমান, সমতুল্য বা সমকক্ষ। ইসলামী পরিভাষায়, বিয়ের ক্ষেত্রে বর ও কনের মধ্যে দ্বীনদারী, বংশ, আভিজাত্য, সম্পদ এবং রুচিবোধের দিক থেকে যে সমতা বা সামঞ্জস্য বজায় রাখা হয়, তাকেই কুফু বলা হয়। ​

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুফু বজায় রাখার গুরুত্বারোপ করে বলেছেন: ​”তোমরা ভবিষ্যৎ বংশধরদের স্বার্থে উত্তম নারী গ্রহণ করো এবং ‘কুফু’ বিবেচনায় বিবাহ করো, আর বিবাহ দিতেও ‘কুফুর’ প্রতি লক্ষ্য রাখো।” (সুনান ইবনু মাজাহ: ১৯৬৮) ​কুফুর ক্ষেত্রসমূহ: দ্বীন ও দুনিয়ার সমন্বয় ​ইসলামী স্কলারদের মতে, কুফু প্রধানত কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল:

​১. দ্বীনদারী ও নৈতিকতা: এটি কুফুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। একজন মুমিন ও মুত্তাকি নারীর জন্য একজন অধার্মিক বা পাপাচারী পুরুষ কখনোই সমকক্ষ হতে পারে না।

২. আর্থ-সামাজিক অবস্থা: জীবনযাপনের মান ও আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে বিশাল ব্যবধান থাকলে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

৩. বংশ ও সামাজিক মর্যাদা: পারিবারিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মিল থাকলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকে।

৪. শিক্ষা ও রুচিবোধ: চিন্তা ও মানসিকতার মিল থাকলে দাম্পত্য কলহ কম হয়। ​কুফু না মানার পরিণাম: একটি বাস্তব বিশ্লেষণ ​যখন কুফু না মিলিয়ে বিয়ে করা হয়, তখন জীবনের উদ্দেশ্য ও জীবনযাত্রার ধরনে সংঘাত বাধে। ​

আদর্শিক সংঘাত: একজন দ্বীনদার মানুষ যখন একজন বেদ্বীনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করে, তখন প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজেও আদর্শিক লড়াই শুরু হয়। যা শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথে ধাবিত করে। ​

আর্থিক ও মানসিক চাপ: আয়ের সাথে জীবনযাত্রার মানের সামঞ্জস্য না থাকলে পরিবারে হীনম্মন্যতা ও অসন্তোষ দানা বাঁধে। যেমনটি বলা হয়— “হাতিওয়ালার সাথে বন্ধুত্ব করলে হাতি রাখার মতো ঘরও থাকতে হয়।” নতুবা সেই সম্পর্ক বালির বাঁধের মতো ক্ষণস্থায়ী হয়। ​আদর্শ জীবনসঙ্গী নির্বাচনে অগ্রাধিকার ​বিয়ের ক্ষেত্রে দুনিয়াবি অনেক বিষয় কুফুর অন্তর্ভুক্ত হলেও, রাসূলুল্লাহ (সা.) দ্বীনদারীকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন। একজন নেককার স্ত্রী বা স্বামী পরকালের পথে পাথেয়স্বরূপ।

হাদিসে এসেছে: ​”তোমাদের প্রত্যেকের কৃতজ্ঞ অন্তর ও যিকিরকারী জিহ্বা হওয়া উচিত। আর এমন মুমিনা স্ত্রী গ্রহণ করা উচিত; যে তার আখেরাতের কাজে সহায়তা করবে।” (ইবনে মাজাহ: ১৮৫৬) ​জীবন একটি পরীক্ষাকেন্দ্র। শয়তানের ধোকায় পড়ে “বিয়ের পর দ্বীনদার বানিয়ে নেব” এই তামান্নায় ঝুঁকি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং দ্বীনকে অপরিবর্তিত রেখে দুনিয়াবি বিষয়গুলোতে সামান্য ছাড় দিয়ে কাছাকাছি সমতা বা কুফু নিশ্চিত করাই হলো সঠিক পদ্ধতি। ​

উপসংহার: ​দাম্পত্য জীবন তখনই “সোনায় সোহাগা” হয়, যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সব দিক থেকে সমতা বা কুফু বিদ্যমান থাকে। কুফু কেবল আইনি বিধান নয়, বরং এটি একটি সুখী ও সমৃদ্ধ আগামীর নিরাপত্তা কবচ। যদি দ্বীনদারী থাকে, তবে ক্ষুদ্র অভাব-অনটনেও সুখ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তাই বিবাহের পিঁড়িতে বসার আগেই আবেগ সরিয়ে রেখে কুফু বিবেচনার মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া আমাদের প্রত্যেকের ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব। ​আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে এমন জীবনসঙ্গী দান করুন যারা আমাদের চোখের শীতলতা হবে। ​”রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিইয়াতিনা কুররাতা আইয়ুনিন ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকীনা ইমামা।”#

​লেখক একজন শিক্ষক কবি গবেষক ও প্রাবন্ধিক

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট