
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন: রাজশাহীতে দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী পরিবারের নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে প্রফেশনাল সোসাল ওয়ার্কারস ফাউন্ডেশন (P.S.W.F), রাজশাহী শাখার উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনজন নারীর হাতে তিনটি সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।
দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী পরিবারের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন P.S.W.F, রাজশাহী শাখার সভাপতি জায়তুনা খাতুন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সবুর আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মহিনুল হাসানসহ প্রফেশনাল সোসাল ওয়ার্কারস ফাউন্ডেশন, রাজশাহী শাখার কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম তিনজন দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী পরিবারের নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন।
বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, স্বল্প পুঁজিতে ঘরে বসে আয় করার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হচ্ছে সেলাই কাজ। সেলাই মেশিন পাওয়ার মাধ্যমে এসব নারী নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। পাশাপাশি তাঁরা পরিবারের আয় বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে এলে দরিদ্র পরিবারগুলোর জীবনমান আরও উন্নত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে P.S.W.F, রাজশাহী শাখার সভাপতি জায়তুনা খাতুন সংগঠনের ভবিষ্যৎ বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলাই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি সমাজের বিত্তবান ও সক্ষম ব্যক্তিদের এ ধরনের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজকরা জানান, সেলাই মেশিন বিতরণের মাধ্যমে উপকারভোগীরা ঘরে বসেই কাজ করার সুযোগ পাবেন। এতে তাঁদের পরিবারের আয় বাড়ার পাশাপাশি নারীদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সকাল ৯টা ৪০ মিনিট থেকে ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।#