
# মোঃ রাসাদুদ জামান, আত্রাই নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সড়কের ও গাইডওয়াল (ব্রিক প্যালাসাইড) নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে অনিয়ম করায় এ ঘটনায় উপজেলার থলওলমা ও ভাগসুন্দর গ্রামের বাসীন্দাদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবী কর্তৃপক্ষ কাজটি তদারকরি করে সঠিক ভাবে সম্পূর্ণ করা হোক।
আত্রাই উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়- নওগাঁ জেলা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে উপজেলার থলওলমা বাই বিশা ভায়া ভাগসুন্দর পর্যন্ত ১ হাজার ২৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের বিটুমিনাস সড়ক এবং ৪৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গাইডওয়াল নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। যার মোট চুক্তি মুল্য ১ কোটি ৯৪ লাখ ৮৫ হাজার ৩২২ টাকা। কাজটি পেয়েছেন নওগাঁ শহরের উকিলপাড়া মানহা ট্রেডার্স। তবে সাব ঠিকাদার হয়ে কাজটি করছেন আত্রাই উপজেলার গোলজার রহমান। বিটুমিনাস কাজ বলতে মূলত বিটুমিন বা অ্যাসফাল্ট ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ, সংস্কার এবং ওয়াটারপ্রুফিং বোঝায়। কাজটি শুরু হয়েছে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হবে ২০২৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারিতে।
উপজেলার আত্রাই নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত থলওলমা, ভাগসুন্দর ও বিশা গ্রাম। এ তিন গ্রামে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষের বসবাস। দীর্ঘদিনে সংস্কার না হওয়ায় বর্ষায় নদীর পানির চাপে মাটির এ সড়কটি ভেঙে যায়। ভ্যানও ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। কৃষিপন্য সময়মতো বাজারজাত করা সম্ভব হয়না। চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীদের। তাদের দীর্ঘদিনের দাবী এ সড়কটি একদিন সংস্কার হবে। এলাকাবাসীদের দূর্ভোগ নিরসনে অবশেষে গত ২মাস থেকে গাইডওয়াল নির্মান সহ সড়ক সংস্কারে কাজ করা হচ্ছে। যেখানে ব্যাপক অনিয়ম করা হচ্ছে। গাইডওয়াল (ব্রিক প্যালাসাইড) নির্মাণে সিমেন্টের খুঁটির সাথে ১০ ইঞ্চির ইটের গাঁথুনি দেওয়া হয়েছে। ইটের গাঁথুনির ওপরে ১৫ ইঞ্চির ঢালাই হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ৫ ইঞ্চির ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এসব কাজে সিমেন্টের পরিমান কম এবং খারাপ বালু ব্যবহার করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়নি।

এছাড়া গাইডওয়ালের নিচ থেকে গভীর করে মাটি কেটে সড়কের জন্য ভরাট করা হচ্ছে। এতে সড়কের গোড়ায় মাটি সরে যেকোন সময় ধ্বসে যেতে পারে। আবার যেখানে পানির চাপ সেখানে গাইডওয়াল না করে ফাঁকা রাখা হয়েছে। ধামাচাপা দিয়ে কাজ শেষ করার তোড়জোড় করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ- গাইডওয়াল নির্মাণে অনিয়ম করা হয়েছে। এতে নির্মাণের দুইদিনের মাথায় তা ফাঁটল দেখা দেয়। এলাকাবাসীর তোপের মুখে ঠিকাদার সেখানে মাটি দিয়ে তড়িঘড়ি করে ঢেকে দেয়। আবার প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেওয়া হয়। থলওলমা গ্রামের বয়জেষ্ঠ্য আব্দুস সোবহান বলেন- রাস্তা হলে আমাদের সুবিধা হবে। কিন্তু যেভাবে বাঁধ (গাইডওয়াল) তৈরি করা হয়েছে কোথাও আছে আবার কোথাও নেই। যেখানে বাঁধ নেই বর্ষার সময় নদীতে পানি আসলে মাটি ধ্বসে পড়বে। এতে সড়কটি আমাদের কোন কাজে আসবে না। পুরো সড়কটিতে বাঁধ দিলে টেকসই হতো।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সোলাইমান আলী বলেন- কাজ যেভাবে হওয়া দরকার সেভাবে হচ্ছে না। সরকারি কাজগুলোতে একটি সাইনবোর্ড থাকে সেখানে কাজের বিস্তারিত দেওয়া থাকে। ঠিকাদার যখন কাজ শুরু করে তখন তাকে কাজের বিষয়ে আমরা জানতে চেয়েছিলাম তিনি কোন সদুত্ত্বর দেননি। গাইডওয়াল যথাস্থানে করা হয়নি এবং ওয়ালের পাশ থেকেই মাটি কাটা হচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী কাজটি তদারকি করে যেন সঠিক ভাবে তৈরি করা হয়। এতে এলাকাবাসীরা উপকৃত হবো। স্থানীয় খলিল হোসেন বলেন- গাইডওয়ালের নিচ থেকে মাটি কেটে রাস্তায় দেওয়া হচ্ছে। এতে করে গাইডওয়ালটি দূর্বল হয়ে পড়বে। কয়েকদিন আগে গাইডওয়ালের এক জায়গায় ফাঁটল দেখা দেয়। পরে ঠিকাদাররা সেটা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে যেন মানুষ বুঝতে না পারে। তাহলে এই যদি অবস্থা হয় কতদিন সড়কটি টিকবে।
এ বিষয়ে সাব ঠিকাদার গোলজার রহমান বলেন- কাজে কোন ধরনের অনিয়ম করা হয়নি। শিডিইল অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। আত্রাই উপজেলা প্রকৌশলী নিতিশ কুমার বলেন, রাস্তাটি ‘নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ থেকে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিটুমিনাস কাজ করা হচ্ছে। শিডিউলে বাইরে থেকে মাটি নিয়ে এসে ভরাট ও সাইনবোর্ড তৈরির কোন বরাদ্দ নেই। যার কারণে পাশ থেকে মাটি কেটে সড়ক তৈরি করা হচ্ছে। তবে এতে সড়কের কোন সমস্যা হবে না। এছাড়া কাজে কোন ধরণের অনিয়ম হয়নি বলে অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। আর সড়কটি তৈরি হলে গ্রামগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনেতিক দিক দিয়েও তারা এগিয়ে যাবে।#