1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
  3. saykotrajshahi2@gmail.com : Shazaman :
তানোরে সারের কৃত্রিম সংকটে দিশেহারা কৃষক !   - দৈনিক সবুজ নগর
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
এমপি মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় নাচোলে জরাজীর্ণ সড়ক পরিদর্শন, দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস বাগমারায় ইজারা নেওয়া পুকুর দখল ও মাছ চুরির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি ঋণখেলাপির তালিকা থেকে সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম মোল্লার নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ মির্জাপুরে দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর, হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক মির্জাপুরের হাটুভাঙ্গায় টোল আদায় বন্ধের দাবি, চরম ক্ষোভে স্থানীয় ও পথচারীরা রাসিকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের হাতে আনুতোষিকের চেক তুলে দিলেন প্রশাসক রাজশাহীর চারঘাটে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়ন না করলে আন্দোলন তীব্র হবে: রাকসু ভিপি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব: দুই মাসে ৫৪ জন সংক্রামিত, ঝুঁকিতে গবাদিপশু ও মানুষ শিবগঞ্জে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ১

তানোরে সারের কৃত্রিম সংকটে দিশেহারা কৃষক !  

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ২৩১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

৥ মোঃ মমিনুল ইসলাম মুন, বিশেষ প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে টিএসপি ও ডিএপি সার নিয়ে রীতিমতো তুঘলকি কারবার শুরু হয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে আসলে সারের সংকট না সিন্ডিকেট। অন্যদিকে বাইরের উপজেলা থেকে চোরাই পথে তানোরে প্রতিদিন শত শত বস্তা সার আসছে, এসব সারের কোনো ক্রয় রশিদ নাই।ফলে সার আসল-নকল না ভেজাল সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ একশ্রেণীর সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী সার সংকটের অজুহাতে ১৩৫০ টাকা বস্তার টিএসপি ১৯৫০:টাকা ও ১০৫০ টাকার ডিএপি সার সাড়ে ১৫০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি করছে। এতে বিপাকে পড়েছে সাধারণ কৃষক। কৃষকেরা এক বস্তা টিএসপি ও ডিএপি সারের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা এক দোকান থেকে আরেক দোকান ধর্না দিয়েও সার পাচ্ছেন না। তবে বাড়তি দাম দিলেই সার পেতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আবার বাড়তি দামে সার দেয়া হলেও কোনো ক্রয় রশিদ দেয়া হচ্ছে না। ফলে এসব সার আসল-নকল না ভেজাল সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

কৃষকেরা বলছে সংকট নাই, তাহলে বাড়তি দাম দিলেই সার পাচ্ছেন  কি ভাবে। আর এসব সার আসছে কোথা থেকে ? বিক্রি করছে কারা ? স্থানীয়রা জানান, অধিকাংশ সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী আওয়ামী মতাদর্শী। এরা অন্তবর্তী সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে সার নিয়ে সিন্ডিকেট সৃষ্টি করেছে।

তারা বলেন, কৃষি বিভাগ কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বেশী দামে সার বিক্রি বন্ধ করতে পারলেই সিন্ডিকেট ভেঙে যাবে। তবে কৃষি বিভাগের রয়েছে গা-ছাড়া ভাব। অভিজ্ঞ মহলের ভাষ্য,যদি বেশী দামেই সার কিনতে হয়, তাহলে বিসিআইসির ডিলারদের সেই নির্দেশনা দেয়া হোক। এতে কৃষকরা এক জায়গা থেকে সার কিনতে পারলে তাদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে।

জানা গেছে, তানোর পৌরসভার তালন্দ বাজারের মেসার্স লাবনী ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী গণেশ ও কাজল টেড্রার্স,কালীগঞ্জহাটের মিজান ট্রেডার্সের মালিক মহব্বত আলী, আজিজপুর মোড়ের নজরুল ইসলাম, সরনজাই বাজারের মেসার্স সজিব টেড্রার্স, মাদারীপুর বাজারের মোখলেসুর রহমান ও কৃষ্ণপুর হাটের আলমপ্রমুখ। তারা  নওগাঁর মান্দা উপজেলার  সাবাইহাট, দেলুয়াবাড়ী ও চৌবাড়িয়া, রাজশাহীর মোহনপুরের কেশরহাট ও ধুরইলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চোরাইপথে রশিদ বিহীন সার কিনে অবৈধভাবে মজুদ ও কৃষকের কাছে দ্বিগুন দামে বিক্রি করছেন।

এদিকে এসব সার আসল নকল না নিম্নমাণের সেটা বোঝার ক্ষমতা নাই সিংহভাগ কৃষকের। আবার রশিদ বিহীন এসব সার কিনে কৃষকেরা প্রতারিত হলে পরে ব্যবসায়ীরা অস্বীকার করে, ক্রয় রশিদ  না থাকায় কৃষকরা কোনো প্রতিকার পায় না। তালন্দ ইউপির দুলাল বলেন, তিনি তালন্দ বাজারের গণেশের দোকান থেকে ১৯৫০ টাকা বস্তা টিএসপি সার কিনেছেন, কিন্তু তাকে কোনো রশিদ দেয়া হয়নি। ছাঐড় গ্রামের আব্দুল বলেন, বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাদারীপুর বাজারের মোখলেসুর রহমানের দোকানে দাঁড়িয়ে থেকেও এক বস্তা সার পাননি।

কৃষকেরা জানান, মোখলেসুর কালোবাজারে দিগুন দামে সার বিক্রি করছেন,তবে কোনো রশিদ দিচ্ছেন না,রশিদ চাইলে সার দিচ্ছে না। বিষয়টি স্থানীয় কৃষি বিভাগকে জানানো হলেও তারা রহস্যজনক ভুমিকা পালন করছে। ফলে কোনো প্রতিকার না পেয়ে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে দ্বিগুন দামে সর কিনছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স লাবনী ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী গণেশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি সাবাইহাট থেকে মেমো ছাড়াই বেশী দামে সার কিনে আনছেন, কমদামে তো বিক্রি করতে পারেন না, আর এসব নিম্নমাণের নয় ভাল মাণের সার। তিনি বলেন, শুধু  তিনি না সবাই বাড়তি দামে সার বিক্রি করছেন।

এবিষয়ে তানোর উপজেলা কৃষি  কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, সারের সংকট নাই বাড়তি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, তাদের বাজার মনিটরিং কাজ চলমান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের  নভেম্বর মাসে তানোর পৌর এলাকার তালন্দ বাজারের বালাইনাশক ব্যবসায়ী মনিরুলের দোকানে মজুদ সারের কোন মেমো দেখাতে না পারার অপরাধে ১ লাখ ২৬ হাজার, একই কারনে টিপুর ১০ হাজার ও গণেশের ১৫ হাজার এবং কলমা ইউপির সার ব্যবসায়ী নজরুলের সার পাচারে দায়ে এক লাখ টাকা, ধানতৈড় মোড়ের খুচরা সার ব্যবসায়ী জসিমের ট্রাকে করে সার নামানোর দায়ে ১৫ হাজার  টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। তবে এবার চোরাই পথে আরো বেশী সার আসলেও  অজ্ঞাত কারণে সেই তৎপরতা নেই।#

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট