
জিয়াউল কবীর, স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হলেও রাজশাহীতে শহীদ আলী রায়হান ও সাকিব আঞ্জুম হত্যার বিচার শুরু হয়নি। উদ্ধার হয়নি আন্দোলনে হামলায় ব্যবহৃত সেই সব অবৈধ অস্ত্রও। নেই এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারও। বিচার, অস্ত্র উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতার—সকল ক্ষেত্রেই ভালো অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই বিপ্লবী ও নিহতদের পরিবার-আত্মীয় স্বজন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজশাহীর আলুপট্টিতে ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন রায়হান ও সাকিব। ওই দিন রাজশাহীর সাহেববাজার থেকে তালাইমারী পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে প্রকাশ্যে পিস্তল, শটগান, রামদা ও চাপাতি দেখা যায়। কিন্তু দুই বছর পরও সেসব অস্ত্রের অধিকাংশের খোঁজ মেলেনি।
পুলিশের তদন্তসূত্র জানায়, আলামত পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে রায়হান ও সাকিব ছোট আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে নিহত হন। ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো পুলিশের প্রচলিত অস্ত্রের সঙ্গে মেলে না। অথচ দুই বছরেও মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল হয়নি। নিহতদের পরিবার বলছেন, মামলা থাকলেও তদন্তের গতি নেই। জুলাই বিপ্লবীরা দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সাহেববাজার, আলুপট্টি, সোনাদীঘির মোড়, মালোপাড়া, তালাইমারী, কাজলা ও বিনোদপুর এলাকায় প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ৫ আগস্ট সরকার পতনের খবর ছড়ানোর পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা আত্মগোপনে চলে যায়। তখনই অস্ত্রগুলো সরিয়ে ফেলা হয় বলে ধারণা।
এ বিষয়ে আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, “অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের অনেকে আত্মগোপনে থাকায় সব অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব হচ্ছে না।” রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রকাশ্যে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার না হলে ভবিষ্যতে তা আবারও সহিংসতায় ব্যবহারের আশঙ্কা থাকে।” সামাজিক বিশ্লেষক তৌফিক আহমেদ বলেন, “অবৈধ অস্ত্র সমাজে থাকলে অপরাধচক্র শক্তিশালী হবে।” পুলিশ বলছে, অস্ত্র উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।#