
সবুজনগর ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের জনস্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের অপপ্রচার ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
আজ রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যৌথ সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি এবং খাল খননের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার দেশের উৎপাদন ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। একই সঙ্গে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বারোপ এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ চলছে।
জ্বালানি সংকট ও মূল্যের তথ্য
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা, ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালির পথ দিয়ে জ্বালানি তেলের জাহাজ আসার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারকে অহেতুক দায়ী করা হচ্ছে।
তিনি জ্বালানি খাতের প্রকৃত হিসাব তুলে ধরে বলেন:
দেশে বছরে মোট জ্বালানি তেলের ব্যবহার ৭০ লাখ মেট্রিক টন, যার মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টন।
সরকার প্রতি মাসে প্রায় ৩,৮১৩ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছিল।
প্রতি লিটার ডিজেল সরকারকে কিনতে হয় ২৫০ টাকা দরে। আগে ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করায় লিটারপ্রতি প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হতো।
অতি সম্প্রতি ২০ টাকা মূল্য সমন্বয়ের পরও সরকারকে লিটারপ্রতি ৭০ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।
বাংলাদেশে ডিজেলের দাম ছিল ১১৫ টাকা, অন্যদিকে ভারতে ছিল ১৩৪ টাকার বেশি; ফলে সীমান্ত দিয়ে ডিজেল পাচার হয়ে যাচ্ছিল।
বৈশ্বিক তুলনায় বাংলাদেশে দাম এখনো অনেক কম। জাপানে প্রতি লিটার তেলের দাম ১.০৭ ডলার, যেখানে বাংলাদেশে আগে ছিল ০.৩০০ ডলার।
তিনি জানান, সরকার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস ও জ্বালানি এনে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নিশ্চিত করছে, যার ফলে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে।
রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের চক্রান্ত
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারের জনকল্যাণমুখী উদ্যোগকে ব্যঙ্গ করে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব কলঙ্ক লেপন ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ, সহযোগী ও পেশাজীবী সংগঠন শিগগিরই সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি শুরু করবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের ভেতরে থাকা সাবেক ফ্যাসিবাদ ও অগণতান্ত্রিক শক্তির এজেন্টরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সরকার এদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
জাতিসংঘ অধিবেশনে অর্থনৈতিক সাশ্রয়
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাত্র ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল যাওয়া প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট প্রতিনিধিদল। অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকার বিদেশে গিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সংবর্ধনার আয়োজন করত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ ধরনের অর্থ অপচয় ও রিসেপশন আয়োজন করতে স্পষ্ট নিষেধ করেছেন। এটি প্রমাণ করে বর্তমান সরকার জনগণের অর্থের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।#