1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
 ঠাকুরগাঁওয়ে মডেল টিটিসি বাস্তবায়নে সমন্বিত উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিষয়ক মত বিনিময় সভা  রাজশাহীতে দুই ধর্ষণের ন্যায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সাফল্য শিবগঞ্জ ল্যাবরেটরি স্কুলের শিবগঞ্জে গৃহবধূ সুমাইয়া হত্যা নয়, এটি আত্মহত্যা, দাবি স্বামীর পরিবারের রাজশাহীতে শুরু হলো এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং প্রশিক্ষণ বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন বজ্রপাতে পঞ্চগড় দেবিগঞ্জে দুই কৃষকের মৃত্যু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আজ উত্তাল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক শিবগঞ্জে অর্ধ শতাধিক পরিবার পেল সবজির বীজ-হাঁসের বাচ্চা লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরেও নিয়োগ ছাড়াই শিক্ষকতা করছেন মেরিনা ও তোফায়েল,নিরব স্থানীয় প্রশাসন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করে বিক্ষোভ

হিল্লা বিবাহ: অপব্যাখ্যা ও প্রকৃত ইসলামী বিধানের আলোকে একটি বিশদ পর্যালোচনা

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

_____ড. মোঃ আমিনুল ইসলাম৥ ​

ইসলামী শরিয়তে বিবাহ কেবল একটি সামাজিক চুক্তি নয়, বরং এটি একটি পবিত্র ইবাদত ও পারিবারিক জীবনের ভিত্তি। আল্লাহ তাআলা এই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে মানুষের মানবিক সীমাবদ্ধতা ও অনিবার্য পরিস্থিতিতে যদি বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাকের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তবে ইসলাম তার সমাধানও বাতলে দিয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, তালাক সংক্রান্ত কোরআনি বিধানের অপব্যাখ্যা এবং কিছু কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রথাকে ইসলাম বলে চালিয়ে দেওয়ার ফলে আমাদের সমাজে ‘হিল্লা বিবাহ’ নামক একটি ঘৃণ্য ও ইসলাম-বিরোধী প্রথা শিকড় গেড়েছে।

এই প্রবন্ধে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে হিল্লা বিবাহের প্রকৃত স্বরূপ এবং শরীয়তের সঠিক বিধান আলোচনার দাবি রাখে। ​১. তালাক: কুরআনি বিধান ও তালাকে মুগাল্লিজা ইসলামে তালাক কেবল চরম পরিস্থিতিতে অনুমোদিত একটি প্রক্রিয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তালাক দুই বার পর্যন্ত, এরপর হয় বিধি অনুযায়ী ধরে রাখবে, না হয় সুন্দরভাবে বিদায় দেবে” (সূরা আল-বাকারাহ: ২২৯)। স্বামী তার স্ত্রীকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তিনটি তালাক দেওয়ার অধিকার রাখেন। যদি স্বামী তৃতীয় তালাকটি প্রদান করেন, তবে তা ‘তালাকে মুগাল্লিজা’ বা চূড়ান্ত তালাক হিসেবে গণ্য হয়। এই স্তরে পৌঁছালে স্বামী-স্ত্রী বিবাহ বন্ধন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে যান। এরপর তারা পুনরায় একত্রে বসবাস করতে চাইলে নতুন কোনো বিবাহের প্রয়োজন হয়। তবে এই নতুন বিবাহের পথটিও আল্লাহ তায়ালা সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।

​২. হিল্লা প্রথা ও এর ভ্রান্ত স্বরূপ বর্তমানে সমাজে প্রচলিত ‘হিল্লা’ হলো একটি কৃত্রিম কৌশল। যেখানে একজন নারীকে তালাক দেওয়ার পর পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অন্য কোনো পুরুষের সাথে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা ভাড়াভিত্তিক বিয়ের নাটক সাজানো হয়। এই প্রক্রিয়াটি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, অভিশপ্ত এবং জঘন্য অপরাধ। এটি বিবাহের পবিত্রতা ও উদ্দেশ্যের সাথে চরম উপহাস। মহানবী (সা.) এই কাজের সাথে জড়িতদের সম্পর্কে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) হিল্লাকারী এবং যার জন্য হিল্লা করা হয়, উভয়কেই লানত বা অভিশাপ করেছেন (সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং ১১২০)। ইসলামে বিবাহ হওয়া উচিত আজীবন একসাথে থাকার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে, কোনো সাময়িক কৌশল বা স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নয়। ​

৩. কুরআন নির্দেশিত বিবাহের শর্ত ও প্রকৃত দাম্পত্য মিলন পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা তালাক পরবর্তী সমস্যার সমাধানে সূরা আল-বাকারার ২৩০ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, “যদি সে (দ্বিতীয় স্বামী) তাকে তালাক দেয়, তবে তারা উভয়ই যদি মনে করে যে, তারা আল্লাহর সীমারেখাসমূহ রক্ষা করে চলতে পারবে, তবে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ায় তাদের কোনো দোষ নেই।” ​এখানে একটি বিতর্ক প্রায়ই সামনে আসে—বিবাহ কি শুধু নামমাত্র ‘আকদ’ বা চুক্তি? উত্তর হলো, কখনোই না। ইসলামী ফিকহ ও শরীয়তের আলোকে এখানে বিবাহের প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জিত হওয়া শর্ত। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে স্বাভাবিক ও প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্ক বা সহবাস হওয়া এক্ষেত্রে অপরিহার্য শর্ত। ​এই শর্তের স্বপক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী দলীল হলো উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস। রাসূলুল্লাহ (সা.) এক নারীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, তুমি প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যেতে পারবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামী তোমার স্বাদ আস্বাদন করে এবং তুমি তার স্বাদ আস্বাদন করো (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫৮২৫; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৪৩৩)। অর্থাৎ, এখানে স্বামী-স্ত্রীর দৈহিক মিলন বা প্রকৃত সংসার হওয়া শর্ত। ইসলামে বিবাহের অর্থ হলো একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ পারিবারিক জীবন। যদি বিবাহের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ দাম্পত্য মিলন না থাকে, তবে সেটি শরীয়তের দৃষ্টিতে কেবল একটি সাজানো নাটক, যা বিবাহের উদ্দেশ্যকেই নস্যাৎ করে দেয়।

​৪. হিল্লা প্রথার সামাজিক ও নৈতিক বিপর্যয় হিল্লা প্রথা কেবল ধর্মীয় অবমাননাই নয়, এটি নারীর সম্মান ও মর্যাদার ওপর চরম আঘাত। একজন নারীকে কেবল একটি কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা কেবল কাগজে-কলমে বিয়ে দিয়ে আবার তালাক দেওয়া ইসলামের নারী অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক। এটি সমাজের পারিবারিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেয় এবং বিবাহের মতো পবিত্র বিষয়কে খেলনায় পরিণত করে। যারা এই প্রথাকে বৈধ মনে করে, তারা মূলত আল্লাহর আইনের ভুল ব্যাখ্যা বা বিকৃতি ঘটাচ্ছে। ইসলামে কোনো বিষয় বৈধ করার জন্য ছলচাতুরির আশ্রয় নেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

​৫. সমাজ সংস্কার ও প্রকৃত শিক্ষার প্রচার আমাদের সমাজ থেকে এই কুসংস্কার দূর করতে হলে শিক্ষার প্রসার প্রয়োজন। তালাক এবং তার পরবর্তী বিবাহের বিধানগুলো যদি আলেম-উলামা ও সচেতন মহলের মাধ্যমে সঠিকভাবে প্রচার করা হয়, তবেই মানুষ এই ভ্রান্ত পথ থেকে ফিরে আসবে। মানুষকে বুঝতে হবে, তিনটি তালাক দেওয়ার পর অনুশোচনা হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সেই অনুশোচনার সমাধান কখনোই হারাম কাজের মাধ্যমে হতে পারে না। প্রকৃত তওবা এবং শরীয়তের অনুসরণের মাধ্যমেই কেবল আল্লাহর রহমত পাওয়া সম্ভব। ​

উপসংহার পরিশেষে বলা যায়, বিবাহ কোনো সাময়িক চুক্তি বা খেলনা নয়। ইসলামে বৈবাহিক জীবন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। যারা হিল্লা প্রথার সাথে জড়িত, তারা জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তায়ালার বিধানের সাথে কোনো ধরনের কৃত্রিমতা বা কৌশলের আশ্রয় নেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে বড় অন্যায়। ইসলামী বিধান অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সহজ। কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং তা অনুশীলনের মাধ্যমেই সমাজ থেকে এই ঘৃণ্য প্রথা নির্মূল করা সম্ভব। হিল্লা প্রথা পরিহার করে ইসলামের প্রকৃত ও মানবিক বিধানের পথে ফিরে আসাই প্রতিটি মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব!… লেখক একজন শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, গবেষক প্রাবন্ধিক ও সমাজচিন্তক।#

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট