1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
  3. saykotrajshahi2@gmail.com : Shazaman :
তানোরে একই পরিবারের ৩ জন সদস্য নিয়ে এডহক কমিটি গঠনের অভিযোগ - দৈনিক সবুজ নগর
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
সাইবার আইনে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশে ব্যাপক রদবদল পুজোর আগেই উধাও হবে মেচেতা! জেনে নিন ত্বকের দাগছোপ মোছার আধুনিক থেরাপি নওগাঁর পত্নীতলায় দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ সমাবেশ আড়ানি পৌরসভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জোরদার বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের প্রয়াণে এমপি মিলনের শোক প্রকাশ খুলনা আর্ট একাডেমির ঐতিহ্য সংগ্রহশালা পরিদর্শনে ঝালকাঠির অতিথিরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে পোরশায় বিএনপির আলোচনা সভা রূপসায় ভূমিদস্যু ও মামলাবাজদের কবল থেকে রক্ষা পেতে সেনা সদস্যের সংবাদ সম্মেলন রাসিকে জাতীয় নগর নীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর সেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

তানোরে একই পরিবারের ৩ জন সদস্য নিয়ে এডহক কমিটি গঠনের অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

৥ নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে নিজের আমলের ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা ধামাচাপা দিতে একই পরিবারের তিন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিতর্কিত ‘পকেট এডহক কমিটি’ গঠন করেছেন। চলতি বছরের গত ২৭ জুলাই রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. শামীম হাসান কর্তৃক ছয় মাসের জন্য এ কমিটি অনুমোদন করে নেন প্রধান শিক্ষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান অত্যন্ত চতুরতার সাথে তার বিগত দিনের অনিয়মের হিসাব ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা আড়াল করতে এই পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই পকেট কমিটিতে বোর্ড কর্তৃক মনোনীত সভাপতি করা হয়েছে তানোর পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক মো. সাহিন সরকারকে। কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য করা হয়েছে সভাপতির চাচা আব্দুস সাত্তার মাস্টারকে। আর অভিভাবক সদস্য করা হয়েছে সভাপতির আরেক চাচা হাবিব সরকারকে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কমিটির শীর্ষ পদে থাকা সভাপতি মো. সাহিন সরকার, অভিভাবক সদস্য মো. হাবিব সরকার এবং শিক্ষক প্রতিনিধি আব্দুস সাত্তার-এরা তিনজনই মূলত একই পরিবারের সদস্য। এভাবে একই পরিবার থেকে তিনজনকে তিন ভিন্ন কোটায় এবং ভিন্ন ভিন্ন তদারকি কর্মকর্তার মাধ্যমে মনোনীত করিয়ে এনে এই বিশেষ পকেট কমিটি গঠন সম্পন্ন করা হয়েছে। আর অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান নিজে পদাধিকার বলে এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এব্যাপারে নতুন এডহক কমিটির সদস্যরা বলছেন- শিক্ষাবোর্ড তাদের কমিটির সদস্যদের যোগ্যতা দেখেই নিয়ম মেনেই নতুন কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম, উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ধরনের পকেট কমিটি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। একই পরিবারের সদস্যরা যখন সভাপতি, অভিভাবক সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধি হন, তখন প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের জবাবদিহিতা থাকে না। বরং এটি প্রধান শিক্ষকের সকল অপকর্মের সুরক্ষাকবচ বা ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডকে ভুল বুঝিয়ে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে একই পরিবারের লোকদের কমিটিতে ঢোকানো হয়েছে। তারা অনতিবিলম্বে এই বিতর্কিত এডহক পকেট কমিটি বাতিল করে প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের আর্থিক দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘ প্রায় চার দশকেও উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের দাবি, প্রতিষ্ঠান প্রধানের দুর্নীতি এবং কতিপয় রাজনৈতিক নেতার ছত্রচ্ছায়ার কারণেই বিদ্যালয়টি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এরআগে এ বিদ্যালয়ে এডহক কমিটির সভাপতি ছিলেন- তানোর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন-আহবায়ক এমদাদুল হক। তার অজান্তে এ কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, একই পরিবারের তিনজন সদস্যকে নিয়ে এডহক কমিটি গঠনে পদের বিন্যাস ও কুক্ষিগত করার প্রক্রিয়া নিয়ে এলাকার সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষা অনুরাগী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অপরদিকে, এই বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করার জন্য তানোর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. আফজাল হোসেনকে মনোনীত করে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ডিও লেটার দেন। আফজাল হোসেন এমপির সেই ডিও লেটার প্রধান শিক্ষককের কাছে জমা দেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এমপির ডিও লেটার অনুয়ায়ী তাকে কমিটির সভাপতি করা হয়নি বলে জানান আফজাল হোসেন।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে বিদ্যালয়টিতে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন সাইদুর রহমান। এঅবস্থায় ২০১৯ সালে প্রধান শিক্ষক আবিদা খাতুন অবসরে গেলে উপরমহলে তদবির করে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পেয়েই সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগসাজশে ৬ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান। এছাড়াও বিদ্যালয়ের ২৩টি দোকানঘর থেকে বছরে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা ভাড়া ও জামানতের অর্থ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা আদায় করা হলেও এর কোনো সঠিক হিসাব নেই বলে জানান স্থানীয়রা।

এবিষয়ে তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্বরত মোহনপুর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসএম মাহমুদ হাসান বলেন, একই পারিবারের তিনজন সদস্য নিয়ে এডহক কমিটি গঠন বৈধ নয়। অভিযোগ পেলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট