1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
  3. saykotrajshahi2@gmail.com : Shazaman :
তানোরে চা বিক্রেতার মেয়ের মেডিকেলের পড়া লিখা কি টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে ! - দৈনিক সবুজ নগর
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
রাজশাহীতে এনজিওর কিস্তির টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব: স্ত্রীকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল স্বামী ভোলায় ইলিশের চড়া দাম: ভরা মৌসুমেও স্বাদ থেকে বঞ্চিত স্বল্প আয়ের মানুষ পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে পদ্মাপাড়ের নিম্নাঞ্চলে বন্যা: তালাইমারিতে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি ওষুধ দিলেন রাসিক প্রশাসক রিটন তানোরে ৭০ পিস ইয়াবাসহ মাসুদ নামে এক যুবক আটক রূপসায় কাজদিয়া স্কুলে স্পিড ব্রেকারের দাবিতে মানববন্ধন ও ইউএনওকে স্মারকলিপি পুলিশ কার্যালয় ঘেরাও: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সেই ছাত্রদল নেতাকে কেন্দ্রীয় শোকজ পোরশায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২০৬ পিস ডেঙ্গু কিট হস্তান্তর মির্জাপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় রশিদ মিয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা জরিমানা কুষ্টিয়ায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিএনপি অফিসে হামলা, সংঘর্ষ-আগুন আত্রাইয়ের ৮ জলাশয়ে ২৭১ কেজি পোনা মাছ অবমুক্ত, মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির উদ্দ্যোগ

তানোরে চা বিক্রেতার মেয়ের মেডিকেলের পড়া লিখা কি টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে !

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ৯১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

# হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে চা বিক্রেতার মেধাবী মেয়ে মাহমুদার ডাক্তারী পড়া কি টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে? মাহমুদার বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির কৃষ্ণপুর গ্রামে। বাবা চা বিক্রেতা মাসুদ রানা ও মা সায়েরা বিবি একজন গৃহিনী। মাসুদ রানার দুই মেয়ে । এর মধ্যে মাহমুদা বড়, ছোট মেয়ে মিম খাতুন ৬ষ্ট শ্রেনীতে পড়াশুনা করছেন ।

মাহমুদা খাতুন ২০২৩ সালে কৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ ও ২০২৫ সালে কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ হতে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ -৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। বর্তমানে জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়ার সুযোগ পেয়ে সেখানে ভর্তি হয়েছেন মাহমুদা খাতুন। কিন্তু টাকার অভাবে লিখা পড়া বন্ধ হতে চলেছে মাহমুদার। বাবা মাসুদ রানা বলেন, মাহমুদা ছোট থেকেই পড়াশুনাই আগ্রহী। আমরা পড়া লেখা জানিনা। মেয়ে পড়ার আগ্রহ দেখে খেয়ে না খেয়ে গ্রামের প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পর্যন্ত পড়াইছি। প্রাইভেট পড়ার টাকাও দিতে পারিনি সে সময়। সে গরীবের মেয়ে হলেও তার চোখে মুখে স্বপ্ন ছিল ডাক্তারি পড়ার। তার মেধাশক্তি ও ইচ্ছার প্রতিফলন আল্লাহপাক কবুল করেছেন। মাহমুদার বাবা মাসুদ রানার মোবাইল নং ০১৭৯৬-৮৮১৪৪৯।

মাসুদ রানা আরো বলেন, আমি গ্রামের ছোট দোকানের চা বিক্রি করে প্রতিদিন আয় হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এতে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এ আয় দিয়েই আমি গ্রামের কলেজে কোন রকম পড়ালেখা করাতে পেরেছি। মেয়ে এখন মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। ভর্তি সময় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে সে টাকাও ধার করে দিতে হয়েছে। ক্লাশ শুরু হয়েছে তার বই কিনতে লাগবে ২০ হাজার ও একটি স্কিলেটন(কঙ্কল) যার মুল্য ৪০ হাজার টাকা। এতো টাকা জোগার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়াও প্রতি মাসে খাতা কলম ও হোস্টেলের খাওয়া খরচ মাহমুদার লাগবে আরো ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে।

মাহমুদার মা সায়েরা বিবি কান্না কন্ঠে বলেন, আমাদের কোন সম্পতি নেই যে বিক্রি করে মাহমুদাকে পড়ার খরচ জোগাবো। গ্রামে মাত্র ২ শতক জমিতে মাটি ও বেড়ার তৈরির বাড়িতে বাস করি। সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। মেয়েটি ছোট থেকে ধার্মিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। আল্লাহর কাছে কান্না করেন যেন পড়াশনা করে বড় ডাক্তার হয়ে গ্রামের সাধারণ গরীব-দুখি মানুষের ফ্রি চিকিৎসা করতে পারেন।

 

সাহেরা বিবি বলেন, আমার এ গরীব মেয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। তার যে ডাক্তার হওয়া স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে সে জন্য রাষ্টের বর্তমান সরকার ও দেশের বিত্তমানদের কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ আমার মেয়ের পাশে আপনারা দাড়াবেন। মাহমুদা খাতুন বলেন, ১ম বর্ষের ক্লাশ শুরু হয়েছে। তাই গত এক সপ্তহ আগে জামালপুর মেডিকেল কলেজে হোস্টেলে গিয়ে উঠেছেন। নিজের বই না থাকায় পড়াশুনাই একটু কষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও কলেজ কর্তপক্ষ আমাকে একটি স্কিলেটন (কঙ্কল) কিনতে বলেছেন। কিন্ত আমার বাবা টাকার অভাবে এখনও কেনে দিতে পারেনি। সব মিলিয়ে টাকার অভাবে কষ্টে পড়েছি,, জানিনা পড়া লিখা শেষ করতে পারবো কি না। মাহমুদা প্রতিবেশি হেলাল উদ্দিন তিনি মুন্ডুমালা পৌরসভায় কর্মরত কথা হয় তার সাথে তিনি বলেন, মাহমুদা ছোট থেকে বাবা সংসারে শুধু অভাব-অনটনে বেড়ে উঠা তার। অন্যের বই ধার করে অনেক সময় পড়া লেখা করতে হয়েছে। তার বাবা মাসুদ রানা গ্রামে সকালে ও বিকালে চা বিক্রি করেন। কোন কোন সময় মানুষের কামলা খাটেন। গ্রামে অনেক ধনী পরিবার থাকলে মেডেকেলে ভর্তির সুযোগ পাইনি।

তিনি বলেন, মাহমুদার পাশে সবাইকে দাড়ানো উচিৎ। তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসারনাঈমা খান বলেন, মাহমুদার মেডিকেল কলেজে ভর্তির বিষয়টি জানতাম না। এমন পরিবার থেকে মেডিকেলে ভর্তি শুধু তার পরিবারের একাই নয় পুরো তানোর উপজেলার সে গর্ব। তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলে কিছু আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। তবে, শুধু সরকারী সহায়তা নয়, এমন অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।#

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট