
মোহা: সফিকুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি, শিবগঞ্জ: শিবগঞ্জে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। একের পর এক ঘটছে খুনের ঘটনা। গত ১০ দিনে শিবগঞ্জ উপজেলায় ছয়টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাধারণ মানুষ সহ বিভিন্ন পেশাজীবির মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ঘটনাগুলি ঘটছে পারিবারিক কলহ জমিজমা সংক্রান্ত, পরকীয়াসহ নানা কারণে।
পুলিশ স্বীকার করছেন যে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সামাজিক ভাবে সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। গত মঙ্গলবার সূত্র মতে ১০ মার্চ দিবাগত গভীর রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের রানীনগর হঠাৎপাড়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে মিজানুর রহমান মেজু তার স্ত্রী নাসিমা(৫০) বেগমকে নির্মম ভাবে হত্যা করে তার মরদেহ টয়লেটের ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রেখে পলানোর পথে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী হাঙ্গামী গ্রাম থেকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। ৯ মার্চ সন্ধ্যায় উপজেলার পিঠালী তোলা গ্রামের একটি আমবাগান থেকে ট্রাকচালক মাসুদ আলীকে অচেতন অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। একই দিনে বিকালে দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের কর্ণখালী সেতুর ওপর অবৈধভাবে পুকুর খননের মাটিভর্তি ট্রাক্টরের চাপায় ইমন আলী নামে(১১) এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর নির্মম মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য যে শিবগঞ্জে দীর্ঘদিন যাবত পরোক্ষভাবে প্রশাসনিক সহযোগিতায় অবৈধভাবে পুকুর খননের মহোৎসব চলছে এবং এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই আছে। গত ৮ মার্চ রাতে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার কোর্টবাজারে পরকীয়ার ঘটনায় সালিস বসেও কোন সমাধান না হওয়ায় বাড়ি ফিরে যাবার পথে প্রতিপক্ষের হামলায় আনিসুর রহমান(৬০) নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন মুনসুর আলী, আসমাউল ও আওয়ালসহ আরও কয়েকজন। এছাড়া ৪ মার্চ মনোহরপুর গ্রামের ফকির নামে এক ব্যক্তি পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে বিষয়টি এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার একটি আমবাগান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিহাব আলী নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার আগে তাকে নির্যাতন করা হয়েছিল। গত ৩ মার্চ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের পারদিলালপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক দ্বন্দ এবং আইন অমান্যের প্রবণতা বাড়ার কারণেই এ ধরনের সহিংস ঘটনা বাড়ছে।

শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: হুমায়ুন কবির আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির কথা স্বীকার করে বলেন,এখান েেথকে উদ্ধার হতে সামাজিকভাবে সচেতন হওয়া হওয়া ছাড়া পথ নেই। তিনি আরো বলেন প্রতিটি ঘটনায় পৃথক পৃথক মামলা হয়েছে। মরদেহগুলি ময়না তদন্ত করা হয়েছে। ঘটনা স্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আসামীদের ধরে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে ্এবং পলাতক আসামীদের ধরার চেষ্টা চলছে।#