
স্টাফ রিপোর্টার,ঈশ্বরদী,পাবনা : ঈশ্বরদীতে লিজ নেওয়া জমি থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যমানের গাজর লুটের ঘটনায় দুই যুবদলকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ইপিজেড ফাঁড়ি পুলিশ। রবিবার রাতে ঈশ্বরদী ইপিজেড গেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার কৃত যুবদল কর্মীরা হলো পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপের অনুসারী যুবদলের কর্মী বলে পরিচিত এবং পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল ঠাকুরপাড়া গ্রামের মো. কালামের ছেলে মো. আশিস ও একই এলাকার মো. পলানের ছেলে মো. পলাশ ।
ভুক্তভোগী কৃষক উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে মো. শরিফুল ইসলামের ঈশ্বরদী থানায় দায়েরকৃত লিখিত এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাগেছে, শরিফুল ইসলাম পেশাদার কৃষক হিসেবে বছর ভিত্তিক চুক্তিতে জমি লিজ নিয়ে সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।এরই অংশ হিসেবে পাকশী ইউনিয়নের বেলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকটস্থ হব্বুল চেয়ারম্যানের দেড় বিঘা জমি এবং পাকশী পেপার মিলস কলোনির চরকী গেটের পশ্চিম এলাকায় স্বপনের নামে লিজ নেওয়া আরও দুই বিঘা জমিতে গাঁজর চাষ করেন তিনি। একারণে সুযোগ বুঝে আসামিরা তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এ অবস্থায় বাদী প্রথমে ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। এরপরও তারা আরও টাকা দাবি করলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বেলতলা এলাকার দেড় বিঘা জমি থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের ৩’শ মণ গাঁজর লুট করে নেয় তারা। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পাকশী পেপার মিলস কলোনির ২ বিঘা জমি থেকে ৩ লাখ টাকা মূল্যের আরও প্রায় ৩৫০ মণ গাঁজর লুট করা হয় । এসব ঘটনার পরই ভুক্তভোগী কৃষক থানায় প্রায় ৫ লাখ টাকার ফসল লুটের এজাহার দায়ের করেন ।
বাদী আরও জানান, স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, লুট করা গাঁজরের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মমিনুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ভুক্তভোগী কৃষকের এজাহারের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।#