1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
শিবগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দূর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ গোদাগাড়ীতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ ভোলা জেলা পুলিশ লাইনে আধুনিকায়িত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেসের শুভ উদ্বোধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক দুই নদীতে ডুবে তিনজন নিখোঁজ, ৫ ঘণ্টা পর স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার তানোরের চান্দুরিয়া ইউনিয়ন বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা, সচেতনতা ধরে রাখার আহ্বান পাগলি মায়ের ওরস ও মেলা দিয়ে শেষ হলো ১০ মহরম” হিল্লা বিবাহ: অপব্যাখ্যা ও প্রকৃত ইসলামী বিধানের আলোকে একটি বিশদ পর্যালোচনা রাজশাহীতে ‘Run for Padma (Save The Ganges)’ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জে গৃহপরিচালিকা নয়নী হত্যার নেপথ্যে : মামলা ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে ছিনিমিনি, নায্য বিচার পেতে পাশে দাঁড়াল মানবাধিকার সংস্থা রাজশাহীতে বিশ্বকাপ দেখতে যুবকদের প্রজেক্টর দিলেন কাউন্সিলর প্রার্থী জালেমুন

হিল্লা বিবাহ: অপব্যাখ্যা ও প্রকৃত ইসলামী বিধানের আলোকে একটি বিশদ পর্যালোচনা

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ১২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

_____ড. মোঃ আমিনুল ইসলাম৥ ​

ইসলামী শরিয়তে বিবাহ কেবল একটি সামাজিক চুক্তি নয়, বরং এটি একটি পবিত্র ইবাদত ও পারিবারিক জীবনের ভিত্তি। আল্লাহ তাআলা এই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে মানুষের মানবিক সীমাবদ্ধতা ও অনিবার্য পরিস্থিতিতে যদি বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাকের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তবে ইসলাম তার সমাধানও বাতলে দিয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, তালাক সংক্রান্ত কোরআনি বিধানের অপব্যাখ্যা এবং কিছু কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রথাকে ইসলাম বলে চালিয়ে দেওয়ার ফলে আমাদের সমাজে ‘হিল্লা বিবাহ’ নামক একটি ঘৃণ্য ও ইসলাম-বিরোধী প্রথা শিকড় গেড়েছে।

এই প্রবন্ধে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে হিল্লা বিবাহের প্রকৃত স্বরূপ এবং শরীয়তের সঠিক বিধান আলোচনার দাবি রাখে। ​১. তালাক: কুরআনি বিধান ও তালাকে মুগাল্লিজা ইসলামে তালাক কেবল চরম পরিস্থিতিতে অনুমোদিত একটি প্রক্রিয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তালাক দুই বার পর্যন্ত, এরপর হয় বিধি অনুযায়ী ধরে রাখবে, না হয় সুন্দরভাবে বিদায় দেবে” (সূরা আল-বাকারাহ: ২২৯)। স্বামী তার স্ত্রীকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তিনটি তালাক দেওয়ার অধিকার রাখেন। যদি স্বামী তৃতীয় তালাকটি প্রদান করেন, তবে তা ‘তালাকে মুগাল্লিজা’ বা চূড়ান্ত তালাক হিসেবে গণ্য হয়। এই স্তরে পৌঁছালে স্বামী-স্ত্রী বিবাহ বন্ধন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে যান। এরপর তারা পুনরায় একত্রে বসবাস করতে চাইলে নতুন কোনো বিবাহের প্রয়োজন হয়। তবে এই নতুন বিবাহের পথটিও আল্লাহ তায়ালা সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।

​২. হিল্লা প্রথা ও এর ভ্রান্ত স্বরূপ বর্তমানে সমাজে প্রচলিত ‘হিল্লা’ হলো একটি কৃত্রিম কৌশল। যেখানে একজন নারীকে তালাক দেওয়ার পর পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অন্য কোনো পুরুষের সাথে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা ভাড়াভিত্তিক বিয়ের নাটক সাজানো হয়। এই প্রক্রিয়াটি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, অভিশপ্ত এবং জঘন্য অপরাধ। এটি বিবাহের পবিত্রতা ও উদ্দেশ্যের সাথে চরম উপহাস। মহানবী (সা.) এই কাজের সাথে জড়িতদের সম্পর্কে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) হিল্লাকারী এবং যার জন্য হিল্লা করা হয়, উভয়কেই লানত বা অভিশাপ করেছেন (সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং ১১২০)। ইসলামে বিবাহ হওয়া উচিত আজীবন একসাথে থাকার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে, কোনো সাময়িক কৌশল বা স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নয়। ​

৩. কুরআন নির্দেশিত বিবাহের শর্ত ও প্রকৃত দাম্পত্য মিলন পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা তালাক পরবর্তী সমস্যার সমাধানে সূরা আল-বাকারার ২৩০ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, “যদি সে (দ্বিতীয় স্বামী) তাকে তালাক দেয়, তবে তারা উভয়ই যদি মনে করে যে, তারা আল্লাহর সীমারেখাসমূহ রক্ষা করে চলতে পারবে, তবে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ায় তাদের কোনো দোষ নেই।” ​এখানে একটি বিতর্ক প্রায়ই সামনে আসে—বিবাহ কি শুধু নামমাত্র ‘আকদ’ বা চুক্তি? উত্তর হলো, কখনোই না। ইসলামী ফিকহ ও শরীয়তের আলোকে এখানে বিবাহের প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জিত হওয়া শর্ত। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে স্বাভাবিক ও প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্ক বা সহবাস হওয়া এক্ষেত্রে অপরিহার্য শর্ত। ​এই শর্তের স্বপক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী দলীল হলো উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস। রাসূলুল্লাহ (সা.) এক নারীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, তুমি প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যেতে পারবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামী তোমার স্বাদ আস্বাদন করে এবং তুমি তার স্বাদ আস্বাদন করো (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫৮২৫; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৪৩৩)। অর্থাৎ, এখানে স্বামী-স্ত্রীর দৈহিক মিলন বা প্রকৃত সংসার হওয়া শর্ত। ইসলামে বিবাহের অর্থ হলো একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ পারিবারিক জীবন। যদি বিবাহের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ দাম্পত্য মিলন না থাকে, তবে সেটি শরীয়তের দৃষ্টিতে কেবল একটি সাজানো নাটক, যা বিবাহের উদ্দেশ্যকেই নস্যাৎ করে দেয়।

​৪. হিল্লা প্রথার সামাজিক ও নৈতিক বিপর্যয় হিল্লা প্রথা কেবল ধর্মীয় অবমাননাই নয়, এটি নারীর সম্মান ও মর্যাদার ওপর চরম আঘাত। একজন নারীকে কেবল একটি কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা কেবল কাগজে-কলমে বিয়ে দিয়ে আবার তালাক দেওয়া ইসলামের নারী অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক। এটি সমাজের পারিবারিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেয় এবং বিবাহের মতো পবিত্র বিষয়কে খেলনায় পরিণত করে। যারা এই প্রথাকে বৈধ মনে করে, তারা মূলত আল্লাহর আইনের ভুল ব্যাখ্যা বা বিকৃতি ঘটাচ্ছে। ইসলামে কোনো বিষয় বৈধ করার জন্য ছলচাতুরির আশ্রয় নেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

​৫. সমাজ সংস্কার ও প্রকৃত শিক্ষার প্রচার আমাদের সমাজ থেকে এই কুসংস্কার দূর করতে হলে শিক্ষার প্রসার প্রয়োজন। তালাক এবং তার পরবর্তী বিবাহের বিধানগুলো যদি আলেম-উলামা ও সচেতন মহলের মাধ্যমে সঠিকভাবে প্রচার করা হয়, তবেই মানুষ এই ভ্রান্ত পথ থেকে ফিরে আসবে। মানুষকে বুঝতে হবে, তিনটি তালাক দেওয়ার পর অনুশোচনা হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সেই অনুশোচনার সমাধান কখনোই হারাম কাজের মাধ্যমে হতে পারে না। প্রকৃত তওবা এবং শরীয়তের অনুসরণের মাধ্যমেই কেবল আল্লাহর রহমত পাওয়া সম্ভব। ​

উপসংহার পরিশেষে বলা যায়, বিবাহ কোনো সাময়িক চুক্তি বা খেলনা নয়। ইসলামে বৈবাহিক জীবন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। যারা হিল্লা প্রথার সাথে জড়িত, তারা জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তায়ালার বিধানের সাথে কোনো ধরনের কৃত্রিমতা বা কৌশলের আশ্রয় নেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে বড় অন্যায়। ইসলামী বিধান অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সহজ। কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং তা অনুশীলনের মাধ্যমেই সমাজ থেকে এই ঘৃণ্য প্রথা নির্মূল করা সম্ভব। হিল্লা প্রথা পরিহার করে ইসলামের প্রকৃত ও মানবিক বিধানের পথে ফিরে আসাই প্রতিটি মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব!… লেখক একজন শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, গবেষক প্রাবন্ধিক ও সমাজচিন্তক।#

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট