
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অযৌক্তিক হয়রানির অভিযোগ তুলে সি অ্যান্ড এফ অ্যাসোসিয়েশনের কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সাথে সমাধানের জন্য আলোচনায় বসেও কোনো সুরাহা হয়নি। মঙ্গলবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে বন্দরে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকের জট সৃষ্টি হওয়া সহ সার্বিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের পক্ষে মো. ওয়াসিম আকরামসহ অন্যান্য বক্তারা কাস্টমস কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তারা বলেন, তুচ্ছ বিষয়ে অযথা কর্মচারীদের হয়রানি করা, কোনো কারণ ছাড়াই কার্ড আটকে রাখা, ফাইল জমা দেওয়ার পর নতুন নতুন জটিলতা তৈরি এবং আগাম না জানিয়ে হঠাৎ নতুন নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নানা ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, কাস্টমস কর্মকর্তাদের অশোভন আচরণ এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে পণ্যের চালানে অতিরিক্ত ট্যাক্স বা জরিমানা আদায়ের মতো ঘটনা ঘটছে। এমনকি রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় অফিসে এসি চালিয়ে রাখার বিষয়টিও হয়রানির অংশ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, কোনো আমদানিকারকের ২০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক আসলে পণ্য পরীক্ষা করার নামে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই সব ট্রাক পানামার ভেতরে নিয়ে আনলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে অতিরিক্ত খরচের পুরো বোঝা আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদেরই বহন করতে হচ্ছে। অবিলম্বে এসব স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও বৃহৎ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ ব্যাপারে সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাঃ রুহুল আমীন বলেন, “৪ নভেম্বর বুধবার বিকেলে এক সভার মাধ্যমে সমাধানের কথা ছিল। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত কমিশনার সাহেব না আসায় আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। ফলে আমাদের কর্মবিরতি কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
অন্যদিকে বিষয়টিতে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “বুধবার বিকেলে কমিশনারের সাথে আলোচনার কথা ছিল। তবে বাইরে থাকায় আলোচনা হয়েছে কি না বা ফলাফল কী, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত বলতে পারছি না।#