1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
  3. saykotrajshahi2@gmail.com : Shazaman :
নিখোঁজ শিশু উদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্র ও সমাজের ভূমিকা - দৈনিক সবুজ নগর
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
. টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ: বাঁচতে চান ঠাকুরগাঁওয়ের আদিবাসী পলাশ পাহান নিখোঁজ শিশু উদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্র ও সমাজের ভূমিকা জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে দেশসেরা শিবগঞ্জ, সম্মাননা পেলেন ইউএনও মাজহারুল ইসলাম নওগাঁয় ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে যাত্রাপালা ‘জেল থেকে বলছি’ প্রদর্শিত আত্রাইয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান: গাঁজা ও টাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার ২ রাজশাহীর বাঘায় শাহদৌলা সরকারি কলেজে ছাত্রদলের উদ্যোগে নবীন বরণ  টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে পুলিশের অভিযান: ১৫ হা: ৬শ’ টাকার ইয়াবাসহ আটক ৩ খুলনা আর্ট একাডেমি পরিদর্শন করলেন ঢাকা থেকে আগত চিত্রশিল্পী তন্ময় রায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অভিযান: ১২০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ জনের কারাদণ্ড নরসিংদীর শিবপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সভা ও উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

নিখোঁজ শিশু উদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্র ও সমাজের ভূমিকা

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

।। নিকোলাস বিশ্বাস।।

একটি শিশু নিখোঁজ হলে একটি পরিবার শুধু সন্তানকেই হারায় না; হারায় নিরাপত্তাবোধ, মানসিক শান্তি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থা। উদ্বিগ্ন বাবা-মা সন্তানের ছবি হাতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করছেন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়াচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর আমাদের পুলিশি ব্যবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়া কত দ্রুত, কার্যকর ও নিরাপদভাবে সাড়া দিতে পারে? আর শিশুদের অপহরণ, যৌন নির্যাতন ও শোষণ থেকে রক্ষার আসল দায়িত্ব কার?

Table of Contents

নিখোঁজ শিশুর পরিসংখ্যান ও বাস্তবচিত্র

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৫,৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ থানায় নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ১৩,৬৭৯ শিশু উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২,০৩৮ শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তবে জিডির সংখ্যা কেবল নথিভুক্ত ঘটনাই তুলে ধরে; প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ অনেক ঘটনা হালনাগাদ হয় না, আবার আইনি জটিলতার ভয়ে অনেক ঘটনা রিপোর্টই করা হয় না।

সব নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এক ধরনের নয়।

  • কোনো শিশু পারিবারিক বা সামাজিক সমস্যার কারণে বাড়ি ছেড়ে যেতে পারে।

  • আবার কেউ অপহরণ, মানব পাচার, যৌন নির্যাতন বা শোষণের শিকার হতে পারে।

তাই শুধু কতজন নিখোঁজ হলো তা জানাই যথেষ্ট নয়; জানতে হবে কেন তারা নিখোঁজ হচ্ছে, এরপর তাদের সাথে কী ঘটছে এবং তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি কতটা কার্যকর। ইউনিসেফসহ (UNICEF) আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শক্তিশালী শিশু-সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়া, সহিংসতার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

নিখোঁজ শিশুর মামলা সাধারণ নিখোঁজের চেয়ে আলাদা কেন?

শিশু নিজেকে সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতা সবসময় রাখে না; তাকে সহজেই প্রলোভন, ভয় বা প্রতারণার মাধ্যমে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে দরিদ্র শিশু, পথশিশু, প্রতিবন্ধী শিশু এবং পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকা শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

তাই প্রতিটি নিখোঁজ শিশুর ঘটনাকে জরুরি পরিস্থিতি (Emergency) হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। নিখোঁজ হওয়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টা অনুসন্ধান ও উদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিলম্ব হলে অপরাধীরা শিশুকে অন্য জেলায় সরিয়ে নিতে বা পাচারের সুযোগ পেয়ে যায়।

থানায় জিডি করাই পুলিশের চূড়ান্ত কাজ নয়, বরং অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার শুরু। অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুর বয়স, সাম্প্রতিক ছবি, সর্বশেষ অবস্থান ও ঝুঁকির বিষয় দ্রুত মূল্যায়ন করে আইনি পদক্ষেপ ও অনুসন্ধান শুরু করা প্রয়োজন।

থানা ও আইনি প্রক্রিয়ায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি

সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর অসহায় বাবা-মা পুলিশের কাছে গেলে উদাসীনতা, সন্দেহ বা অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করতে হবে। পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্পর্ক হওয়া উচিত সহায়ক, সম্মানজনক ও মানবিক।

  • ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা: প্রতিটি থানায় প্রশিক্ষিত শিশু সুরক্ষা ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা থাকা প্রয়োজন, যিনি পরিবারকে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য দেবেন।

  • আন্তঃসংস্থা সমন্বয়: প্রয়োজনে সমাজসেবা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা ও শিশু সুরক্ষা সংস্থার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। অসহায় মা-বাবার কাছে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—কেউ তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনছে এবং সন্তানের সন্ধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

উদ্ধার পরবর্তী যত্ন ও মানসিক কাউন্সিলিং

নিখোঁজ শিশু উদ্ধার হয়ে ফিরে এলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। শিশুটি কোথায় ছিল, কার সঙ্গে ছিল, কিংবা তাকে কোনো শারীরিক নির্যাতন, ভয়ভীতি বা শোষণের শিকার হতে হয়েছে কিনা—তা বের করতে হবে শিশুবান্ধব অনুসন্ধানের মাধ্যমে।

শিশুকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা, ভয় দেখানো বা দায়ী করা যাবে না। উদ্ধার হওয়া শিশুর জরুরি মানসিক কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা, চিকিৎসা এবং নিরাপদ পুনর্বাসন প্রয়োজন। মূল ঝুঁকি চিহ্নিত না করে শুধু পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিলে শিশুটি আবারও একই বিপদে পড়তে পারে।

সুরক্ষা শুরু হোক পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে

যৌন নির্যাতন ও শিশু শোষণের ক্ষেত্রে সামাজিক লজ্জা ও নীরবতা সবচেয়ে বড় বাধা। সামাজিক কলঙ্ক বা পারিবারিক অসম্মানের ভয়ে অনেক পরিবার ঘটনা গোপন রাখে; কখনো কখনো শিশুকেই উল্টো দোষারোপ করা হয়।

এই সংস্কৃতির পরিবর্তন জরুরি: ১. সচেতনতা বৃদ্ধি: শিশুদের শেখাতে হবে—তাদের অস্বস্তিতে ফেলার বা ভয় দেখানোর অধিকার কারও নেই। কেউ প্রলোভন দেখালে বা গোপন রাখতে বললে দ্রুত বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্ককে জানাতে হবে। ২. সুরক্ষা নীতি: স্কুল ও মাদ্রাসায় কার্যকর শিশু সুরক্ষা নীতি (Child Safeguarding Policy) বাস্তবায়ন করতে হবে। ৩. শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ: শিক্ষক ও কর্মীদের নির্যাতনের লক্ষণ শনাক্তকরণ, অভিযোগের যথাযথ ব্যবস্থা ও গোপনীয়তা রক্ষায় প্রশিক্ষিত করতে হবে। ৪. অনলাইন সুরক্ষা: ডিজিটাল সাইবার স্পেসে শিশুদের নিরাপদ থাকার উপায় ও সচেতনতা বাড়াতে হবে।

প্রযুক্তি ও তথ্য আদান-প্রদান

একটি কার্যকর জাতীয় তথ্যব্যবস্থা (National Database) থাকলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্রুত তথ্য বিনিময় সম্ভব হবে। ঢাকার কোনো থানায় শিশু নিখোঁজ হলে সেই তথ্য যেন তাৎক্ষণিকভাবে সারা দেশের থানায় পৌঁছায়। সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজের আইনি ও সঠিক ব্যবহার এক্ষেত্রে দ্রুত ফলাফল দিতে পারে।

চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮ (Child Helpline 1098)

শিশু সুরক্ষায় চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সেবা। কিন্তু গ্রামীণ এলাকার অনেক অভিভাবক ও শিশু এখনও এই নম্বর সম্পর্কে সচেতন নয়। স্কুল, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, ইউনিয়ন পরিষদ, বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে ১০৯৮ নম্বরটি দৃশ্যমানভাবে প্রচার করা উচিত।

সমন্বিত উদ্যোগ ও প্রতিরোধমূলক সমাজ

শিশু সুরক্ষার দায়িত্ব কেবল পুলিশ বা সমাজসেবা অধিদপ্তরের নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বিচার বিভাগ, এনজিও ও গণমাধ্যম—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গণমাধ্যমকে সংবাদ প্রকাশের সময় শিশুর সুরক্ষা, মর্যাদা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে।

শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত শৈশব, শিক্ষা, পুষ্টি এবং সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ নিশ্চিত করার সরকারের সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে রাষ্ট্রযন্ত্রকে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে।

শিশুর নিরাপত্তা কোনো দয়া বা করুণা নয়; এটি তার মৌলিক অধিকার। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন এক সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

নিকোলাস বিশ্বাস

একটি শিশু নিখোঁজ হলে একটি পরিবার শুধু সন্তানকেই হারায় না; হারায় নিরাপত্তাবোধ, মানসিক শান্তি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থা। উদ্বিগ্ন বাবা-মা সন্তানের ছবি হাতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করছেন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়াচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর আমাদের পুলিশি ব্যবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়া কত দ্রুত, কার্যকর ও নিরাপদভাবে সাড়া দিতে পারে? আর শিশুদের অপহরণ, যৌন নির্যাতন ও শোষণ থেকে রক্ষার আসল দায়িত্ব কার?

নিখোঁজ শিশুর পরিসংখ্যান ও বাস্তবচিত্র

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৫,৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ থানায় নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ১৩,৬৭৯ শিশু উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২,০৩৮ শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তবে জিডির সংখ্যা কেবল নথিভুক্ত ঘটনাই তুলে ধরে; প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ অনেক ঘটনা হালনাগাদ হয় না, আবার আইনি জটিলতার ভয়ে অনেক ঘটনা রিপোর্টই করা হয় না।

সব নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এক ধরনের নয়।

  • কোনো শিশু পারিবারিক বা সামাজিক সমস্যার কারণে বাড়ি ছেড়ে যেতে পারে।

  • আবার কেউ অপহরণ, মানব পাচার, যৌন নির্যাতন বা শোষণের শিকার হতে পারে।

তাই শুধু কতজন নিখোঁজ হলো তা জানাই যথেষ্ট নয়; জানতে হবে কেন তারা নিখোঁজ হচ্ছে, এরপর তাদের সাথে কী ঘটছে এবং তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি কতটা কার্যকর। ইউনিসেফসহ (UNICEF) আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শক্তিশালী শিশু-সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়া, সহিংসতার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

নিখোঁজ শিশুর মামলা সাধারণ নিখোঁজের চেয়ে আলাদা কেন?

শিশু নিজেকে সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতা সবসময় রাখে না; তাকে সহজেই প্রলোভন, ভয় বা প্রতারণার মাধ্যমে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে দরিদ্র শিশু, পথশিশু, প্রতিবন্ধী শিশু এবং পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকা শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

তাই প্রতিটি নিখোঁজ শিশুর ঘটনাকে জরুরি পরিস্থিতি (Emergency) হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। নিখোঁজ হওয়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টা অনুসন্ধান ও উদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিলম্ব হলে অপরাধীরা শিশুকে অন্য জেলায় সরিয়ে নিতে বা পাচারের সুযোগ পেয়ে যায়।

থানায় জিডি করাই পুলিশের চূড়ান্ত কাজ নয়, বরং অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার শুরু। অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুর বয়স, সাম্প্রতিক ছবি, সর্বশেষ অবস্থান ও ঝুঁকির বিষয় দ্রুত মূল্যায়ন করে আইনি পদক্ষেপ ও অনুসন্ধান শুরু করা প্রয়োজন।

থানা ও আইনি প্রক্রিয়ায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি

সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর অসহায় বাবা-মা পুলিশের কাছে গেলে উদাসীনতা, সন্দেহ বা অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করতে হবে। পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্পর্ক হওয়া উচিত সহায়ক, সম্মানজনক ও মানবিক।

  • ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা: প্রতিটি থানায় প্রশিক্ষিত শিশু সুরক্ষা ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা থাকা প্রয়োজন, যিনি পরিবারকে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য দেবেন।

  • আন্তঃসংস্থা সমন্বয়: প্রয়োজনে সমাজসেবা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা ও শিশু সুরক্ষা সংস্থার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। অসহায় মা-বাবার কাছে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—কেউ তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনছে এবং সন্তানের সন্ধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

উদ্ধার পরবর্তী যত্ন ও মানসিক কাউন্সিলিং

নিখোঁজ শিশু উদ্ধার হয়ে ফিরে এলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। শিশুটি কোথায় ছিল, কার সঙ্গে ছিল, কিংবা তাকে কোনো শারীরিক নির্যাতন, ভয়ভীতি বা শোষণের শিকার হতে হয়েছে কিনা—তা বের করতে হবে শিশুবান্ধব অনুসন্ধানের মাধ্যমে।

শিশুকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা, ভয় দেখানো বা দায়ী করা যাবে না। উদ্ধার হওয়া শিশুর জরুরি মানসিক কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা, চিকিৎসা এবং নিরাপদ পুনর্বাসন প্রয়োজন। মূল ঝুঁকি চিহ্নিত না করে শুধু পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিলে শিশুটি আবারও একই বিপদে পড়তে পারে।

সুরক্ষা শুরু হোক পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে

যৌন নির্যাতন ও শিশু শোষণের ক্ষেত্রে সামাজিক লজ্জা ও নীরবতা সবচেয়ে বড় বাধা। সামাজিক কলঙ্ক বা পারিবারিক অসম্মানের ভয়ে অনেক পরিবার ঘটনা গোপন রাখে; কখনো কখনো শিশুকেই উল্টো দোষারোপ করা হয়।

এই সংস্কৃতির পরিবর্তন জরুরি: ১. সচেতনতা বৃদ্ধি: শিশুদের শেখাতে হবে—তাদের অস্বস্তিতে ফেলার বা ভয় দেখানোর অধিকার কারও নেই। কেউ প্রলোভন দেখালে বা গোপন রাখতে বললে দ্রুত বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্ককে জানাতে হবে। ২. সুরক্ষা নীতি: স্কুল ও মাদ্রাসায় কার্যকর শিশু সুরক্ষা নীতি (Child Safeguarding Policy) বাস্তবায়ন করতে হবে। ৩. শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ: শিক্ষক ও কর্মীদের নির্যাতনের লক্ষণ শনাক্তকরণ, অভিযোগের যথাযথ ব্যবস্থা ও গোপনীয়তা রক্ষায় প্রশিক্ষিত করতে হবে। ৪. অনলাইন সুরক্ষা: ডিজিটাল সাইবার স্পেসে শিশুদের নিরাপদ থাকার উপায় ও সচেতনতা বাড়াতে হবে।

প্রযুক্তি ও তথ্য আদান-প্রদান

একটি কার্যকর জাতীয় তথ্যব্যবস্থা (National Database) থাকলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্রুত তথ্য বিনিময় সম্ভব হবে। ঢাকার কোনো থানায় শিশু নিখোঁজ হলে সেই তথ্য যেন তাৎক্ষণিকভাবে সারা দেশের থানায় পৌঁছায়। সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজের আইনি ও সঠিক ব্যবহার এক্ষেত্রে দ্রুত ফলাফল দিতে পারে।

চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮ (Child Helpline 1098)

শিশু সুরক্ষায় চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সেবা। কিন্তু গ্রামীণ এলাকার অনেক অভিভাবক ও শিশু এখনও এই নম্বর সম্পর্কে সচেতন নয়। স্কুল, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, ইউনিয়ন পরিষদ, বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে ১০৯৮ নম্বরটি দৃশ্যমানভাবে প্রচার করা উচিত।

সমন্বিত উদ্যোগ ও প্রতিরোধমূলক সমাজ

শিশু সুরক্ষার দায়িত্ব কেবল পুলিশ বা সমাজসেবা অধিদপ্তরের নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বিচার বিভাগ, এনজিও ও গণমাধ্যম—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গণমাধ্যমকে সংবাদ প্রকাশের সময় শিশুর সুরক্ষা, মর্যাদা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে।

শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত শৈশব, শিক্ষা, পুষ্টি এবং সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ নিশ্চিত করার সরকারের সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে রাষ্ট্রযন্ত্রকে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে।

শিশুর নিরাপত্তা কোনো দয়া বা করুণা নয়; এটি তার মৌলিক অধিকার। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন এক সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।##

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট