1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
শিবগঞ্জ সীমান্ত থেকে অর্ধগলিত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ উদ্ধার গাজীপুর জেলা পেশাজীবী সাংবাদিক পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সভাপতি ডাঃ এফ রহমান, সম্পাদক নাসির, সাংগঠনিক সম্পাদক  শুল্কায়ন মূল্য বাড়ায় ১৭দিন যাবত পাথর আমদানী বন্ধ, স্থবির সোনামসজিদ স্থলবন্দর,বেকার হয়ে পড়েছে সহস্রা ধিক শ্রমিক খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর মনোনীত হলেন মোঃ সাদিকুর রহমান পত্নীতলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলার  আসামী ঢাকা থেকে গ্রেফতার, বিস্ফোরক  দ্রব্য ও হিরোইন উদ্ধার   ফারাক্কার লংমার্চের ৪৯ বছর পরও  চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদী যেন শুকনা চর শিবগঞ্জের  ৫৬ কমিনিটি ক্লিনিকে  ৯মাস থেকে ঔষধ বন্ধ, ভোগান্তিতে সেবা গ্রহিতরা   সরকারের ভিজিএফের চাল পেয়ে দুস্থ পরিবারগুলো আনন্দে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন: ফজলুল হক মিলন এমপি

তানোরে সারের কৃত্রিম সংকট, কৃষক দিশেহারা, আলু চাষ ব্যাহত হওয়ার আশংকা

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৩৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

৥ মমিনুল ইসলাম মুন, বিশেষ প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোর উপজেলাজুড়ে নন-ইউরিয়া সার (এমওপি, টিএসপি ও ডিএপি) নিয়ে তুঘলকি পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। এতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এ সংকট কি আসলেই ঘাটতির কারণে, নাকি সিন্ডিকেটের অপকৌশল?

কৃষকদের অভিযোগ, টিএসপি যেখানে সরকারি দামে ১৩৫০ টাকা, সেখানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৯৫০ টাকায়। ডিএপি ও এমওপি ১০৫০ টাকার পরিবর্তে বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায়। সরকারি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকান ঘুরেও মিলছে না। তবে বাড়তি দাম দিলে সহজেই মিলছে। আবার এসব বাড়তি দামে বিক্রি করা সার দেওয়া হচ্ছে কোনো ক্রয় রশিদ ছাড়াই। ফলে সার আসল না নকল তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, তানোরের বেশিরভাগ সার ডিলারই বহিরাগত বা স্থানীয় নয়, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নাগরিকত্ব দেখিয়ে ডিলারশিপ পেয়েছেন। এতে স্থানীয় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না কৃষি বিভাগ। তাদের মতে, কঠোর মনিটরিং হলেই এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু কৃষি দপ্তরের গা-ছাড়া মনোভাব পরিস্থিতি আরও জটিল করছে। প্রতি বছর আলু মৌসুমে একই সংকটে পড়েন আলু চাষিরা। ন্যায্য দামে সার না পেয়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় তাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট চললেও কৃষি বিভাগের রহস্যজনক নীরবতা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করে দিয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে কৃষি বিভাগের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠেছে। গত মৌসুমে লোকসানের মুখে পড়া অসংখ্য আলু চাষি এবার পুনরায় আলু চাষের প্রস্তুতি নিয়েও দিশেহারা।

কৃষকেরা অভিযোগ করেন, বরাদ্দ কম হওয়ায় ডিলাররা পার্শ্ববর্তী উপজেলা মান্দা, মোহনপুর, নাচোল, নিয়ামতপুর, গোদাগাড়ী, নওগাঁ সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থেকে সার এনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। কৃষি কর্মকর্তারা মৌখিকভাবে বাইরে থেকে সার আনার অনুমতি দেওয়ায় এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। সরকারি দামে সামান্য সার নিতে ডিলারের দোকানে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক কৃষক খালি হাতে ফিরছেন।

একজন কৃষক জানান, টিএসপি ১৮০০ টাকা, ডিএপি ১৪৫০ টাকা ও এমওপি ১১৫০ টাকায় কিনতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু কোথা থেকে কিনেছেন তা প্রকাশ করতে নারাজ তিনি। বিএডিসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি আব্দুল মতিন বলেন, বরাদ্দ কম হওয়ায় বাজারে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা বাইরে থেকে আনা সার বেশি দামে বিক্রি করছেন।

পাঁচন্দর ইউনিয়নের বিসিআইসির সার ডিলার প্রণব সাহা জানান, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী তারা বিক্রি করেন। তবে বাড়তি দামে বাইরে থেকে সার এনে বিক্রির বিষয়টি সবাই জানলেও নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃষি বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, বাইরে থেকে সার না এলে আলু চাষ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অভিযান পরিচালনা করলে কৃষকেরাই ক্ষুব্ধ হবেন। পাশাপাশি বরাদ্দ বৃদ্ধি করলেই এ সংকট দূর হতে পারে।

উপজেলা কৃষি দপ্তর জানায়, এ বছর আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর, যা গতবারের তুলনায় কম হলেও সারের চাহিদা কমেনি। ডিসেম্বর মাসে বরাদ্দ পাওয়া টিএসপি ২৯০ মেট্রিক টন, ডিএপি ১০৯০ মেট্রিক টন, এমওপি ৭০০ মেট্রিক টন ও ইউরিয়া ১৪৫৯ মেট্রিক টন। কিন্তু কৃষকদের অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে চাহিদার তুলনায় এ বরাদ্দ অপ্রতুল।

অতিরিক্ত কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুভাষ কুমার মন্ডল বলেন, বরাদ্দের বাইরে সার দেওয়া সম্ভব নয়। কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শও দেন তিনি। নিয়মিত মনিটরিং, বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দিলে এই সংকট নিরসন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ততদিন পর্যন্ত তানোরের আলু চাষিদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।#

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট