1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
  3. saykotrajshahi2@gmail.com : Shazaman :
অপরাধঃ জালিয়াতির করে একই পরিবারের নামে বিএডিসির ৪ ডিলার! - দৈনিক সবুজ নগর
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে উচ্ছ্বসিত বাদাম বিক্রেতা রাজু: বললেন ‘জীবন সার্থক’ রাজশাহী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, কাল থেকে কাজে ফেরার ঘোষণা কালীগঞ্জে শিশু ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা: প্রধান অভিযুক্তসহ আটক ৩ দেবহাটায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকাস্থ দেবহাটা সমিতির মতবিনিময় সভা ও লিফলেট বিতরণ রাজশাহীতে প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন রাসিক প্রশাসক শিবগঞ্জে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে যুবসমাজের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক বার্তা রাজশাহীতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত: র‍্যালি, আলোচনা সভা ও লিফলেট বিতরণ উন্নত চিকিৎসার জন্য ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদসহ আটক ১: র‍্যাব-৫ এর সফল অভিযান রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজে ‘কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত

অপরাধঃ জালিয়াতির করে একই পরিবারের নামে বিএডিসির ৪ ডিলার!

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৫১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

৥ মমিনুল ইসলাম মুন, বিশেষ প্রতিনিধি : রাজশাহীর মোহনপুরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, তথ্য গোপণ ও জালিয়াতির মাধ্যমে একই পরিবার ৪টি  সার ডিলারের নিয়োগ হাতিয়ে নিয়েছেন। রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার  মৌগাছি ইউনিয়নের (ইউপি) আকুবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা সুলতান হোসেন একই পরিবার থেকে চারটি সার ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহার করছেন বলে সত্যতা পাওয়া গেছে।

সুলতান হোসেন নিজের নামে এসএম হাবিব ট্রেডার্স, যার লাইসেন্স নং ৪৮৮/২৬-৭-২০১২। স্ত্রীর নামে মেসার্স তাই আই ট্রেডার্স, যার লাইসেন্স নং- ৪৮৯/২৬-৭-২০১২। ভাইয়ের নামে মেসার্স সুমাইয়া ট্রেডার্স, যার লাইসেন্স নং- ৪৯০/২৬-৭-২০১২ এবং আত্মীয়র নামে মীম এন্টারপ্রাইজ, যার লাইসেন্স নং- ৩৮৭/২১ ২০১০ নামের চারটি সার ডিলার লাইসেন্স দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন। এই চারটি লাইসেন্সের সার একই গুদামে মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন বলে কৃষকেরা অভিযোগ তুলেছে। স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেছেন সরকারের নির্ধারিত মূল্যে সার না দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রি করে আসছেন এই সুলতান হোসেন। সরকারি মুল্য অনুযায়ী কৃষকরা প্রতি কেজি টিএসপি ২৭ টাকা, এমওপি ২০ টাকা ও ডিএপি ২১ টাকায় পাওয়ার কথা থাকলেও সুলতান সেখানে তিনগুন বেশী টাকার নিচে সার দিচ্ছেন না। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ  হয়ে একজন কৃষক রাজশাহী জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, উপজেলা কৃবি কর্মকর্তা সব জেনেও সুলতানকে আশ্রয়-পশ্রয় দিয়েছেন এবং অতিরিক্ত সার বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছেন।  স্থানীয়রা বলছেন, সুলতান হোসেন ২০১০ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে ডিলারশীপ কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন নামে লাইসেন্স নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটি  সার ব্যবসা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। বিএডিসির ডিলারশিপ নিয়োগে এমন অনিয়ম রাজশাহীর প্রতিটি উপজেলাতেই কম বেশী আছে বলে কৃষকেরা মনে করেন।

বিএডিসি’র সার বিভাগের যুগ্ম- পরিচালক জুলফিকার আলী বলেন, আমাদের কাছে মৌখিকভাবে এমন অভিযোগ একাধিক এসেছে। ডিলার নিয়োগ ও মনিটরিং জেলা প্রশাসকের এখতিয়ারভুক্ত, তাই এ বিষয়ে আমরা সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারি না। আমাদের লাইসেন্স অনুযায়ী সার দিতে হবে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ করেন, তারা অবশ্যই ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, বিএডিসির সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫ এ স্পষ্টভাবে বলা আছে “একই পরিবার বা একই উপকারভোগীর নামে একাধিক ডিলারশিপ অনুমোদন দেওয়া খাবে না। এছাড়া প্রতিটি লাইসেন্সের জন্য আলাদা আলাদা গুদাম (গোডাউন)থাকা বাধ্যতামূলক। শুধু তাই নয়, নীতিমালায় সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, “সরকারি কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, ফৌজদারি মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ডিলার হতে পারবেন না।

এদিকে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে কৃষকদের দেওয়া সেই অভিযোগে বলা হয়েছে, শুধু সুলতান হোসেন নয়, এই অপরাধ প্রশ্রয়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তার হাত রয়েছে বলে তুলে ধরা হয়েছে। নীতিমালা অমান্য, বাজার কারসাজি, কৃত্রিম সংকট তৈরি, ওজনে কারচুপি, সরকারি নির্দেশ অমান্য এগুলো কৃষি কর্মকর্তার মনিটরিং করার কথা থাকলেও তিনি সুলতানকে আশ্রয়-প্রশ্রয় নিয়েছেন। কৃষকরা দ্রুত তদন্ত করে লাইসেন্স বাতিল ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এব্যাপারে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। তাই তার বক্তব্য ও মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে ডিলারশিপের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে এ ধরনের অনিয়ম শুধু কৃষক নয়, পুরো খাদ্য ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এবিষয়ে মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, তার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে ডিলার সুলতান হোসেন নানা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।#

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট