
মোহা: সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধভাবে পাচারের সময় ৮০ বস্তা ডিএপি (DAP) সারসহ দুইজনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় এক বিসিআইসি সার ডিলার ও এক নসিমনচালককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার মহারাজপুর মেলার মোড় এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন:
গোলাম শাহনেওয়াজ (৪৫) — বিসিআইসি সার ডিলার, ‘মেসার্স নিরাপদ এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী। তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড) প্রদান করা হয়।
মো. মতিন (৪৮) — নসিমনচালক। তাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এক নজরে অভিযানের সারসংক্ষেপ:
ঘটনার স্থান: মহারাজপুর মেলার মোড়, সদর উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জব্দকৃত মালামাল: ৮০ বস্তা ডিএপি (DAP) সার ও একটি নসিমন গাড়ি
পরিচালনা করেন: মো. ইকরামুল হক নাহিদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট
প্রসিকিউশন: মো. সুনাইন বিন জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুনাইন বিন জামানের প্রসিকিউশনের ভিত্তিতে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকরামুল হক নাহিদ এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
অভিযানে জব্দকৃত ৮০ বস্তা ডিএপি সার সরকারি মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. পারভেজ আলীর জিম্মায় প্রদান করা হয়। পাশাপাশি, অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত থাকায় অভিযুক্ত গোলাম শাহনেওয়াজের বিসিআইসি ডিলারশিপ বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ বলেন, “সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি নিশ্চিত করা এবং সার পাচার ও অবৈধ মজুত রোধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সারের সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা বজায় রাখতে অবৈধভাবে সার পরিবহন, মজুত ও পাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।#