
মেহেরপুর প্রতিনিধি: হেরপুরে জাল ব্যান্ডরোলযুক্ত নকল আকিজ বিড়ি পাচারের অপরাধে তিনজনকে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। অনাদায়ে আসামিদের আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সম্প্রতি এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পাবলিক প্রসিউকিটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এ এস এম সাইদুর রাজ্জাক (টোটন)।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন:
মোঃ শাহীন আলম (৩৫) — পিতা: নুরুল ইসলাম, গ্রাম: জুগিন্দা, মেহেরপুর সদর।
তহিদুল ইসলাম (৪২) — পিতা: মোহাম্মদ এলাহি, গ্রাম: জয়রামপুর, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া।
আরাফাত রহমান (২০) — পিতা: মোকলেস, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার পর আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এক নজরে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
উদ্ধারকৃত আকিজ বিড়ি: ৭ লাখ ৯৫ হাজার শলাকা (জাল ব্যান্ডরোলযুক্ত)
প্রযুক্ত ধারা: ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন
মামলা নম্বর: মেহেরপুর সদর থানার জিআর নং- ২৫১/২৪, STC নং-১৫/২৫
দণ্ড: ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে ৩ মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড)
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে একটি পিকআপ ভ্যানে করে সরকার নির্ধারিত রাজস্ব ও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল ব্যান্ডরোল যুক্ত নকল আকিজ বিড়ি মেহেরপুরে পাচার করা হচ্ছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে পিকআপসহ ৭ লাখ ৯৫ হাজার শলাকা নকল আকিজ বিড়ি জব্দ করে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মেহেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। মামলায় প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানির ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় প্রদান করেন।#