
জি. এম. আমিনুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা জুড়ে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। দেবী দুর্গার সঙ্গে ভগবান শিব, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী এবং মহিষাসুরের মূর্তিসহ তাদের নিজ নিজ বাহন নির্মাণে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। এবছর উপজেলায় মোট ৭১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গত বছরের চেয়ে একটি বেশি (গত বছর অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৭০টি মণ্ডপে)।
দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। ২০২৬ সালের দুর্গাপূজা মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। পঞ্জিকা মতে, আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হবে।
শ্যামনগর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে মণ্ডপগুলোর বিন্যাস—
শ্যামনগর পৌরসভা: ১৫টি
কাশিমাড়ি ইউনিয়ন: ২টি
নূরনগর ইউনিয়ন: ৩টি
কৈখালী ইউনিয়ন: ৫টি
রমজাননগর ইউনিয়ন: ৬টি
মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন: ১২টি
ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন: ৪টি
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন: ৯টি
আটুলিয়া ইউনিয়ন: ১১টি
পদ্মপুকুর ইউনিয়ন: ২টি
গাবুরা ইউনিয়ন: ২টি

প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়ে মৃৎশিল্পী বাপ্পা বিশ্বাস ও বাবু পাল জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ভালো কাজের অর্ডার পেয়েছেন। তবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা চাপের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তবুও পূর্বপুরুষদের এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা সচেষ্ট।
আরেক মৃৎশিল্পী মণ্যেরঞ্জন পাল বলেন, “প্রতিমা তৈরির কাজ অত্যন্ত ধৈর্য ও নিপুণতার। বিশেষ করে মুখের অবয়ব ফুটিয়ে তোলা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। সময়মতো কাজ শেষ করতে রাতেও কাজ করতে হচ্ছে। এখন রং-তুলির কাজ বাকি, যা পূজার আগেই শেষ হয়ে যাবে।”
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও স্থানীয় পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাসের পাশাপাশি প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রাখার ব্যবস্থা নিয়েছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, “৭১টি পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার ও ভলেন্টিয়ার বাহিনী মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা, মাইকিং ও নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক জানান, “শারদীয় দুর্গাপূজায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। পূজা চলাকালীন বিদ্যুৎ ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
মহাষষ্ঠী: ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার)
মহাসপ্তমী: ১৭ ও ১৮ অক্টোবর (শনিবার ও রবিবার)
মহাষ্টমী: ১৯ অক্টোবর (সোমবার)
মহানবমী: ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার)
বিজয়া দশমী: ২১ অক্টোবর (বুধবার)
প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ, মণ্ডপ সাজানো ও আলোকসজ্জা ঘিরে শ্যামনগরের স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।#