
মোঃ মিজানুর রহমান (স্টাফ রিপোর্টার): ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে নিরাপদ ও জলদস্যুমুক্ত রাখতে নিরলস অভিযান পরিচালনা করে আসছে এসআরবি ফোর্সেস। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত এই প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জীবিকা সরাসরি নির্ভরশীল। তবে দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থানীয় বনজীবীদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সুন্দরবনে দস্যুতা নির্মূলে এসআরবি-৬, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় সুন্দরবনে সক্রিয় “আলিফ বাহিনীর” দুটি গ্রুপের মোট ১৫ জন সদস্য এসআরবি-৬ এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে।
পরবর্তীতে এসআরবি ফোর্সেস গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের বিভিন্ন গহীন এলাকায় টানা তিন দিন ধরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উদ্ধার করা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে:
০১টি বিদেশি শটগান
০৪টি দুনলা বন্দুক
০৯টি ওয়ান শুটারগান
২৭৪ রাউন্ড তাজা গুলি ও ২৩টি খালি কার্তুজ
০৭টি ওয়াকিটকি সেট
০৬টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট
এসআরবি-৬ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুন্দরবনে এখনও যেসব জলদস্যু সক্রিয় রয়েছে, তাদের দস্যুতার পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। আত্মসমর্পণকারীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। তবে যারা অপরাধ অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা জানান, সুন্দরবনকে পুরোপুরি দস্যুমুক্ত রাখতে এবং উপকূলীয় মেহনতি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি অব্যাহত থাকবে। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বনজীবীদের জীবিকার সুরক্ষায় এসআরবি-৬ সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।#