
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পদ্মা নদীতে ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যাওয়ার পর উদ্ধারকৃত ১০ জন বাংলাদেশিকে বিএসএফের কাছ থেকে ফেরত এনেছে বিজিবি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাঁদের হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার বিস্তারিত
গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাখেরআলী এলাকার আলীমনগর ঘাট থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জহুরপুরটেক গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে পদ্মা নদীর মাঝপথে নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় জহুরপুরটেক গ্রামের শামছুল আলমের ছেলে মোঃ ওয়াসিম (২৩) সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও বাকি ১১ জন যাত্রী নিখোঁজ হন।
নৌকাডুবির খবর পেয়ে ভারতের ৭১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের খান্দুয়া ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালান। বিএসএফের সদস্যরা নদী থেকে ১০ জন বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ৩ জন শিশু রয়েছে।
পতাকা বৈঠক ও বিজিবির উদ্ধার তৎপরতা
ঘটনার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) উদ্ধারকৃত নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরত আনতে উদ্যোগ নেয়। একই দিন রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে বিজিবি’র ফরিদপুর বিওপি কমান্ডার এবং বিএসএফের খান্দুয়া ক্যাম্প কমান্ডারের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ উদ্ধারকৃত ১০ জন বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
স্বজনদের কাছে হস্তান্তর
বিজিবি উদ্ধারকৃতদের দেশে ফিরিয়ে আনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাঁদের নিকটাত্মীয় মোঃ ইসমাইল হোসেনের কাছে হস্তান্তর করে। উদ্ধার পাওয়া সবাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার জহুরপুর (বকরী পাড়া) গ্রামের বাসিন্দা।

উদ্ধার প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন:
পুরুষ (৪ জন): মোঃ রাসেল (২৬), মোঃ ইব্রাহিম (৫০), সওদাগর (৪০) এবং মোঃ ইব্রাহিম (৬০)।
নারী (৩ জন): সখিনা (৪৫), নিলুফা (৩৫) এবং তানিয়া (২২)।
শিশু (৩ জন): তানিয়ার ২০ দিন বয়সী শিশু সন্তান, সানাউল্লাহ (৯) ও আল আমিন (৯)।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফেরত আসা ১০ জনই সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন।
১ জন এখনও নিখোঁজ
নৌকাডুবির ঘটনায় একই এলাকার বাসিন্দা মৃত আলতাব হোসেনের ছেলে মোঃ মোস্তফা (৬০) নামের এক ব্যক্তি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁকে উদ্ধারে নদী সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।#