1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
  3. saykotrajshahi2@gmail.com : Shazaman :
আয়ান শর্মা একা নন, পাশে আছেন শত শত সাংবাদিক, চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ - দৈনিক সবুজ নগর
রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
হঠাৎ বন্ধ পাগলা নদীর সেতুর নির্মাণকাজ—দুর্ভোগে শিবগঞ্জের লাখো মানুষ আত্রাইয়ে হাটকালুপাড়া-কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে কাজীহাটা ১ নং পুরাতন জামে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজশাহীর বিদায়ী বিভাগীয় কমিশনারকে রাসিকের বিদায় সংবর্ধনা রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হলো ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ সরকারি রাস্তা কেটে পাইপ স্থাপন, শ্যামনগরে ভেটখালী উত্তর পাড়ায় যেন মরণফাঁদ রূপসায় উপজেলা ইজিবাইক মালিক এবং শ্রমিক সমিতির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত আয়ান শর্মা একা নন, পাশে আছেন শত শত সাংবাদিক, চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ পরকীয়ার অভিযোগে এক বাসা থেকে বিদ্যালয়েয় আয়া- প্রধান শিক্ষক আটক, আদালতে সোপর্দ সাতক্ষীরায় তেল-গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জেলা গণসংহতি আন্দোলনের মানববন্ধন

আয়ান শর্মা একা নন, পাশে আছেন শত শত সাংবাদিক, চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

৥ বিশেষ প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের উপদেষ্টা সম্পাদক ও প্রকাশক আয়ান শর্মাকে ঘিরে অপপ্রচার, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরের চেরাগী পাহাড় মোড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে সাংবাদিকদের স্বাধীন ও নিরাপদভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগের প্রতিকার এবং হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়।

আয়োজকদের ভাষ্য, এটি কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা নির্দিষ্ট কোনো সংগঠনের কর্মসূচি নয়; বরং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি নাগরিক প্রতিবাদ। শুক্রবার, ২১ আগস্ট, বিকেল ৩টার দিকে নগরের চেরাগী পাহাড় মোড়ে সাংবাদিক-ছাত্র-শ্রমিক-জনতার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে একটি প্রতিবাদ র্যালিও বের করা হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিক তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি, হুমকি কিংবা হয়রানির শিকার হলে সেটি শুধু ওই সাংবাদিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশের স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের পরিবেশ সরাসরি সম্পৃক্ত।

তারা বলেন, কোনো সংবাদ নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে সেই আপত্তি তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে জানানো, প্রতিবাদ প্রকাশ করা কিংবা প্রচলিত আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কোনো সাংবাদিককে ভয় দেখানো, সামাজিকভাবে হেয় করা, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো কিংবা বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করা হয়ে থাকলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একটি শিল্পগোষ্ঠীর অনিয়ম ও অসঙ্গতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর আয়ান শর্মা এবং চট্টগ্রাম প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে পড়েছিল। তাদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের জেরে তৎকালীন মন্ত্রী ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে গণমাধ্যমটির প্রকাশনা বন্ধের চেষ্টা করা হয়েছিল।

বক্তাদের আরও দাবি, সে সময় আয়ান শর্মাকে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে হুমকি দেওয়া এবং একাধিক মামলায় আসামি করে হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছিল। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে মতের ভিন্নতা কিংবা সংবাদ প্রকাশ নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেই বিরোধের সমাধান হতে হবে আইন, তথ্য ও যুক্তির মাধ্যমে। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, রাজনৈতিক শক্তি কিংবা প্রশাসনিক পরিচয়ের আড়ালে থেকে সাংবাদিককে চাপে রাখার সংস্কৃতি গণমাধ্যমের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি সমাজের জন্যও বিপজ্জনক। সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আয়ান শর্মাকে ঘিরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাকে কেন্দ্র করে আবারও অপপ্রচার, মিথ্যাচার, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ সামনে এসেছে। তাদের দাবি, কখনো বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম ব্যবহার করে, আবার কখনো সাংবাদিক কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় সামনে এনে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম সামনে রেখে কাউকে ভয় দেখানো হলে সেটি তদন্তের আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে কেউ যদি সত্যিই সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে অন্যায় চাপ সৃষ্টি করে থাকে, সেক্ষেত্রেও তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ সাংবাদিকতার পরিচয় কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি কিংবা কাউকে হয়রানি করার হাতিয়ার হতে পারে না। বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিকের প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদন নিয়ে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তার বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পথ খোলা রয়েছে। কিন্তু সাংবাদিককে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা, তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো কিংবা হুমকি দিয়ে সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হলে সেটি স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তারা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু গণমাধ্যম মালিক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নয়; রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। কোনো সাংবাদিক হুমকির অভিযোগ করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত করা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো কিংবা হুমকির ঘটনা ঘটলে অনেক সময় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাবের কারণে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে না। এ ধরনের পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য তারা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত হবে, প্রমাণ থাকলে আইনি ব্যবস্থা হবে, কিন্তু তদন্তের আগেই কোনো সাংবাদিককে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন কিংবা পরিকল্পিতভাবে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা উচিত নয়। একইভাবে সাংবাদিকদেরও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, তথ্য যাচাই এবং পেশাগত নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। কারণ স্বাধীন সাংবাদিকতার সঙ্গে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তারা বলেন, সত্য প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক যাতে প্রতিহিংসা, চাপ কিংবা ভয়ভীতির মুখে না পড়েন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করা। একই সঙ্গে সাংবাদিকের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না থাকলে সমাজের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা মানুষের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে আসবে না। ফলে একজন সাংবাদিককে ভয় দেখানোর অর্থ শুধু একজন ব্যক্তিকে ভয় দেখানো নয়; এর মাধ্যমে পুরো সমাজের তথ্য জানার অধিকারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সমাবেশ থেকে বক্তারা আরও বলেন, অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ বন্ধ না হলে এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্পর্কে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে তারা স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হলে তার পক্ষে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে যেন কোনো ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো না হয়, সেদিকেও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল থাকতে হবে। একইভাবে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার বক্তব্য নেওয়ার সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তথ্য, প্রমাণ ও সত্য অনুসন্ধান। তাই ভয়ভীতি কিংবা চাপের পরিবর্তে তথ্য ও যুক্তির মাধ্যমে বিতর্কের সমাধান হওয়া উচিত। জুমার নামাজের পর চেরাগী পাহাড় মোড়ে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সাংবাদিক, আইনজীবী, ছাত্রনেতা, শ্রমিক, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার জুলহাজ নীল, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক ও সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল আলম রফিক, দ্য ফিন্যান্স টুডের সম্পাদক ও সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদের সদস্য সচিব মতিউর রহমান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট এম এ হাশেম রাজু, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক ইকবাল, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, সনাতনী সংগঠনের কর্ণধার অশোক চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা আয়ান শর্মার প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার পক্ষে বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের পেশা নয়; এটি সমাজের মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একজন সাংবাদিক কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা অসঙ্গতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের পর যদি কোনো সাংবাদিকের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয় কিংবা হুমকি দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য সাংবাদিকরাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে ভয় পেতে পারেন। এর ফলে গণমাধ্যমে আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য ইতিবাচক নয়। বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকের স্বাধীনতা মানে আইনের ঊর্ধ্বে থাকা নয়। সাংবাদিকও আইনের আওতায় থাকবেন, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল থাকবেন এবং ভুল হলে তার সংশোধন বা জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকবে। কিন্তু একই সঙ্গে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলেই তাকে সামাজিকভাবে হেয় করা কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা যাবে না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য রাষ্ট্রীয় আইন ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়াকে অনুসরণ করেই যেকোনো বিরোধের সমাধান করতে হবে

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বলেন, আয়ান শর্মাকে ঘিরে যে অভিযোগগুলো সামনে এসেছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা যেতে পারে। কিন্তু তদন্তের আগেই কোনো পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তারা বলেন, যেমন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি সাংবাদিকতার আড়ালে কোনো অনিয়ম হলে সেটিও তদন্তের বাইরে থাকা উচিত নয়। সবার জন্য একই আইন ও একই জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকতে হবে। এতে সাংবাদিকের মর্যাদা যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ অতীতেও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রশাসনিক চাপ, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সামাজিক বিরোধ কিংবা নানা ধরনের প্রতিকূলতার মধ্যেও সাংবাদিকরা মানুষের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ফলে কোনো সাংবাদিককে ব্যক্তিগতভাবে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার প্রভাব পুরো সাংবাদিক সমাজের ওপর পড়ে। এ কারণে তারা ব্যক্তির পরিবর্তে নীতির প্রশ্নে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের বক্তব্য, আজ আয়ান শর্মার বিরুদ্ধে যদি কোনো অন্যায় চাপের অভিযোগ ওঠে, আগামীকাল একই ধরনের চাপ অন্য কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও আসতে পারে। তাই সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিকের পাশে দাঁড়ানো মানে তার প্রতিটি সংবাদ বা মতামতের সঙ্গে একমত হওয়া নয়। বরং এর অর্থ হলো, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তিনি যেন আইনি ও পেশাগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই জবাবদিহি করেন এবং তাকে ভয় দেখিয়ে বা হুমকি দিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না হয়। এই নীতিই স্বাধীন সাংবাদিকতার ভিত্তি। তারা বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, সংবাদ নিয়ে বিতর্কও হতে পারে; কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা কিংবা মতপার্থক্য যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপপ্রচার কিংবা হুমকিতে পরিণত না হয়। কর্মসূচি থেকে সাংবাদিকদের স্বাধীন ও নিরাপদভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা, অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগের প্রতিকার, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বেআইনি চাপ সৃষ্টি না করার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, আয়ান শর্মাকে ঘিরে যেসব অভিযোগ সামনে এসেছে সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হোক এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে ভিত্তিহীন অভিযোগ বা অপপ্রচারের মাধ্যমে যদি কারও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়ে থাকে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তাদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে একটি বিষয়, সাংবাদিকের কলম যেন ভয় পেয়ে থেমে না যায়। সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিকের ওপর অন্যায় চাপ সৃষ্টি হলে তার প্রতিবাদ শুধু সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের দায়িত্ব নয়, বরং পুরো সাংবাদিক সমাজের দায়িত্ব। একই সঙ্গে সাধারণ নাগরিক, আইনজীবী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও পেশাজীবীদেরও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব উপলব্ধি করা প্রয়োজন। কারণ একটি স্বাধীন গণমাধ্যম শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়; এটি সাধারণ মানুষের তথ্য জানার অধিকার রক্ষার অন্যতম মাধ্যম।

সমাবেশ শেষে আয়োজকরা বলেন, আয়ান শর্মাকে ঘিরে যে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে, সেগুলোর সত্যতা সময়ের সঙ্গে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত কোনো ধরনের হুমকি, হয়রানি বা পরিকল্পিত অপপ্রচার গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলেন, সত্য-মিথ্যা নির্ধারণের সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো স্বাধীন তদন্ত, তথ্য যাচাই এবং আইনগত প্রক্রিয়া। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়। চেরাগী পাহাড়ের এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ শুধু সাংবাদিক সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও মনে করেন, কোনো সাংবাদিকের ওপর অন্যায় চাপ সৃষ্টি হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা প্রয়োজন। কারণ সংবাদমাধ্যম দুর্বল হয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের কথা বলার জায়গাও সংকুচিত হয়। তাই আয়ান শর্মাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সবশেষে বক্তারা বলেন, আয়ান শর্মা একা নন। একজন সাংবাদিকের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের এই অবস্থান কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি অন্ধ সমর্থন নয়; বরং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার এবং আইনের শাসনের পক্ষে একটি নাগরিক অবস্থান। তারা বলেন, অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক, প্রমাণ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, কিন্তু অপপ্রচার, ভয়ভীতি কিংবা হুমকির মাধ্যমে কোনো সাংবাদিকের কণ্ঠ থামানোর চেষ্টা হলে তার প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড় থেকে উচ্চারিত এই বার্তাই যেন স্পষ্ট করে দিল, একজন সাংবাদিককে একা করে দেওয়ার চেষ্টা হলেও সত্য ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে দাঁড়ানোর মানুষ একা থাকেন না। আয়ান শর্মা একা নন, এক আয়ান শর্মার পাশে শত শত সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক, পেশাজীবী এবং সচেতন নাগরিক।#

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট