1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
পোরশায় আমবাগানে মাদকবিরোধী অভিযান: ২৭০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক পোরশা উপজেলা সমন্বয় সভায় উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা সভা বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কৃষিখাতে: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রাজশাহীর মোহনপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২,আহত ৩ চাঁপইনবাবগঞ্জে মাদক সংক্রান্ত  সালিশে  নিহত ১, আহত ১০ সুন্দরবনে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ জোনাব বাহিনীর ৩ দস্যু আটক দেশ রক্ষায় জীবন উৎসর্গ তানোরের যোগীশো গ্রামের সন্তান তামিম শহিদ, এলাকায় শোকের ছায়া উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের বেহাল দশা, সংস্কারের অপেক্ষায় যাত্রীরা রানীশংকৈলে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে ‘ক্লাস পার্টি দিনভর চলল নাচ-গান ও আড্ডা  ফলোআপ: শিবগঞ্জে  চাঞ্চল্যকর গৃহপরিচালিকা নয়নী হত্যাকান্ডের মূল আসামী মেহেবুব এ খোদা নোমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ  

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কৃষিখাতে: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ৩৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

৥ মোঃ আলফাত হোসেন………………………………..

বাংলাদেশে অর্ধেকেরও বেশি মানুষের জীবিকার জন্য কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল৷ তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে চাষের কাজ। বারবার তাপপ্রবাহের প্রত্যাবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘ খরার সময়কাল এবং আকস্মিক বন্যা ফসল উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। শুধু কৃষক নয়, এর প্রভাব পড়ছে দেশের খাদ্যব্যবস্থা, পুষ্টি এবং বাজারমূল্যের উপরও। খাদ্যনিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা আজ এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা, বন্যা ও উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের ধান ও গম উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গমের উৎপাদন প্রায় ২৩ শতাংশ এবং ধানের উৎপাদন প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে অঞ্চলভেদে এ ক্ষতির মাত্রা আরও বেশি হতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং উত্তরাঞ্চলে পানির সংকট কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিজ্ঞানীরা জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন, উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং অভিযোজনমূলক কৃষি পদ্ধতি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন,একইভাবে ধানের উৎপাদনও কমবে উল্লেখযোগ্যভাবে। সর্বাধিক ক্ষতির মুখে রয়েছেন ছোট ও প্রান্তিক উপকূলের কৃষকরা, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা মোকাবিলা করছেন উপকূলীয় অঞ্চলের ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা।

বাংলাদেশে মোট কৃষি খামারের অধিকাংশই ছোট ও প্রান্তিক কৃষকের দখলে, যাদের সংখ্যা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে বলে বিভিন্ন কৃষি জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। এদের অনেকেই সীমিত সম্পদ নিয়ে চাষাবাদ করেন এবং পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা, কৃষিঋণ, ফসল বিমা ও ন্যায্যমূল্যের বাজার ব্যবস্থার বাইরে থেকে যান। ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার মতো জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, খুলনা,বাগেরহাটের মতো অঞ্চলে নারীরা ও দলিত কৃষকরা দ্বিগুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কারণ তারা চাষের জন্য পান অনুৎপাদনশীল ও অনিরাপদ জমি। মাটি ও জলসম্পদের অবক্ষয় কৃষির টেকসইতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। একদিকে মাটির উর্বরতা কমছে, অন্যদিকে জ্বালানি ও রাসায়নিক সারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ, যার ফলে ফলন আরও কমছে। সমস্যার সমাধানে যেসব পথ খোলা রয়েছে তবে আশার কথা হলো, নানা প্রান্তে নানা ধরনের স্থানীয় ও সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগ কৃষিকে জলবায়ু সহনশীল করে তুলতে সহায়ক হচ্ছে।

উদাহরণস্বরূপ: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশে বিভিন্ন জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে সংরক্ষণশীল কৃষি (Conservation Agriculture) ও জিরো বা মিনিমাম টিলেজ পদ্ধতি উল্লেখযোগ্য। এই পদ্ধতিতে জমি কম চাষ করায় উৎপাদন খরচ কমে, মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষিত থাকে এবং মাটির স্বাস্থ্য উন্নত হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষামূলক ও সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এছাড়া ধান ও গমের পাশাপাশি বহুমুখী ফসল চাষ, খরা ও লবণাক্ততা-সহনশীল জাতের সম্প্রসারণ এবং পুষ্টিকর শস্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মিলেট জাতীয় শস্য, যেমন কাউন, চীনা ও অন্যান্য ক্ষুদ্র দানাদার শস্য তুলনামূলক কম পানি প্রয়োজন করে এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও উৎপাদন সম্ভব। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে এসব শস্যের সম্ভাবনা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বহুমুখী ফসল চাষ ও মিলেট উৎপাদন (যেমন রাগি, কুটকি) যা পুষ্টিকর, পানি-সহনশীল এবং খরায় টিকে থাকার ক্ষমতা রাখে ভবিষ্যতের কৃষির জন্য সম্ভাবনাময়। বাংলাদেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, BARI, BRRI, BARC এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জলবায়ু-সহনশীল, জৈব ও রিজেনারেটিভ কৃষি সম্প্রসারণে কাজ করছে।

নারী কৃষকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি,নারীরা চাষের নতুন পদ্ধতি রপ্ত করছেন এবং সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পথ তৈরি করছেন মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রাসায়নিক নির্ভরতা কমানো এবং টেকসই খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও মাঠভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির ওপর প্রভাব ফসল কমে যাওয়ায় খাদ্য সরবরাহ হ্রাস পাচ্ছে এবং মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষত নারী ও শিশুরা মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।

একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, খাদ্য সংকটে প্রথমে না খেয়ে থাকে মহিলারাই-যা জলবায়ু ঝুঁকির সময় তাদের ঝুঁকি আরও বাড়ায়। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের কৃষিকে যেভাবে পরিবর্তন করছে, তা শুধু উৎপাদন নয়,সমগ্র খাদ্যব্যবস্থা, সামাজিক কাঠামো ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করছে। এই সংকটে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন প্রান্তিক কৃষকদের জন্য টার্গেটেড সহায়তা, বাজারে প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং নারী-কৃষকদের ক্ষমতায়ন।#

৥ লেখক, মোঃ আলফাত হোসেন সদস্য, জাতীয় পরিষদ যুগ্ম আহ্বায়ক, সাতক্ষীরা জেলা গণসংহতি আন্দোলন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট