1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
  3. saykotrajshahi2@gmail.com : Shazaman :
​সামাজিক অসহিষ্ণুতা ও জিঘাংসার সংস্কৃতি: উত্তরণের সন্ধানে - দৈনিক সবুজ নগর
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
দেবহাটায় জিআইএসভিত্তিক গ্রামীণ সড়ক মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এলজিইডির কর্মশালা দেবহাটায় চোর সন্দেহে গ্রামবাসীর ধাওয়া: গুলি ছুড়ে মালামাল ফেলে পালালো সংঘবদ্ধ দল সাতক্ষীরায় মোবাইলে জুয়া খেলার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ব্যক্তির মৃত্যু বাগমারায় চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ শ্যামনগরে রমজাননগর ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিপুল পরিমাণ গানপাউডার ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩টি মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির বড় সফলতা: ৩ কোটি টাকার চোরাই পণ্য উদ্ধার শ্রীরামপুরে বন্যাদুর্গতদের মাঝে রাসিকের ত্রাণ ও জরুরি ওষুধ বিতরণ ব্রিটিশ হাইকমিশনারের নৈশভোজে রাসিক প্রশাসক, ১০০ দিনের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরা

​সামাজিক অসহিষ্ণুতা ও জিঘাংসার সংস্কৃতি: উত্তরণের সন্ধানে

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৩৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

__ ড. মোঃ আমিনুল ইসলাম ৥

​ভূমিকা: ​একটি সুস্থ সমাজের মূল ভিত্তি হলো সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং পরমতসহিষ্ণুতা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশের সমাজ, ধর্ম, রাজনীতি ও শিক্ষার মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলোতে এক ভয়াবহ অস্থিরতা ও অসহিষ্ণুতা দৃশ্যমান হচ্ছে। প্রতিহিংসার আগুন আর অন্যের মতকে স্তব্ধ করে দেওয়ার মানসিকতা আজ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মানুষ যখন যুক্তির ভাষা হারিয়ে পেশিশক্তির ওপর নির্ভর করে, তখন সেই সমাজ মানবিকতা থেকে বিচ্যুত হয়ে এক অন্ধকার গহ্বরে পতিত হয়। আজ চারদিকে যে জিঘাংসার জয়ধ্বনি শোনা যাচ্ছে, তা থেকে উত্তরণ কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান শর্ত।

​বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র: বহুমুখী সংকটের রূপরেখা ​অসহিষ্ণুতার এই বিষবাষ্প আজ সমাজের প্রতিটি স্তরে বিষবৃক্ষের মতো ডালপালা মেলেছে: ​রাজনৈতিক ও সামাজিক জিঘাংসা: রাজনীতি আজ আর আদর্শের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে একে অপরকে নির্মূল করার ক্ষেত্র। ‘শত্রু-মিত্র’ বাইনারি চিন্তায় ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর শারীরিক আক্রমণ ও প্রাণনাশের মতো ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​ধর্মীয় ও নৈতিক অবক্ষয়: ধর্মের মূল বাণী যেখানে শান্তি ও সহিষ্ণুতা, সেখানে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা বা উগ্র প্রচারণাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অপরের ওপর ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। এটি আধ্যাত্মিক উন্নতির বদলে সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি করছে। ​শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে অস্থিরতা: জ্ঞানার্জনের পবিত্র স্থানগুলোতেও আজ দলাদলি আর আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। এমনকি সেবাধর্মী পেশা হিসেবে পরিচিত চিকিৎসা ক্ষেত্রেও রোগীর আত্মীয় ও চিকিৎসকদের মধ্যে আস্থার চরম অভাব দেখা দিচ্ছে, যা প্রায়ই সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। ​ব্যবসায়িক রেষারেষি: সুস্থ প্রতিযোগিতার বদলে সিন্ডিকেট গঠন এবং প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার মানসিকতা অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ​উপাত্ত ও কারণ বিশ্লেষণ ​কেন আমরা এতোটা হিংস্র হয়ে উঠছি?

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে এর পেছনে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত কারণ রয়েছে: ​বিচারহীনতার সংস্কৃতি: অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা মানুষকে আইন হাতে তুলে নিতে উৎসাহিত করে। ​সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্যের বিকৃতি এবং ‘ইকো চেম্বার’ (যেখানে মানুষ কেবল নিজের মতের সমর্থন শুনতে পায়) ঘৃণা ছড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে। ​

আস্থার সংকট: রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা কমে যাওয়ায় মানুষ জিঘাংসার মাধ্যমে নিজের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করছে। ​উত্তরণের উপায়: সমাধানের পথচিত্র ​এই অন্ধকার পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন: ​আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: প্রতিটি অপরাধের দ্রুত এবং নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যখন মানুষ দেখবে আইন সবার জন্য সমান, তখন জিঘাংসার পথ থেকে তারা সরে আসবে।

​শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতার সংযোজন: পাঠ্যপুস্তকে কেবল জিপিএ-৫ অর্জনের লড়াই নয়, বরং পরমতসহিষ্ণুতা, মানবিকতা এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ​পারিবারিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ: সন্তানের প্রথম পাঠশালা হলো পরিবার। মা-বাবাকে তাদের সন্তানদের শেখাতে হবে যে, প্রতিহিংসা নয়, বরং ক্ষমা এবং সহমর্মিতাই মহত্ত্বের লক্ষণ।

​সুশীল সমাজের সক্রিয় ভূমিকা: লেখক, বুদ্ধিজীবী এবং ধর্মীয় নেতাদের উচিত ঘৃণা ও সংঘাতের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। ভিন্নমতের মানুষের সাথে সংলাপের সংস্কৃতি চালু করতে হবে। ​সাংস্কৃতিক জাগরণ: শিল্প-সাহিত্য ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চাই পারে মানুষের ভেতরকার পশুবৃত্তিকে দমন করে মনকে উদার করতে। ​

উপসংহার ​পরিশেষে বলা যায়, প্রতিহিংসার আগুনের কোনো শেষ নেই; এটি কেবল ধ্বংসই ডেকে আনে। বর্তমানের এই মারাত্মক অসহিষ্ণুতা থেকে উত্তরণ একদিনে সম্ভব নয়, তবে অসম্ভবও নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, সমাজ কিংবা রাষ্ট্র কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়; এটি আমাদের নিয়েই গঠিত। দোষারোপের সংস্কৃতি পরিহার করে আমরা যদি প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে সহনশীল হই এবং অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকি, তবেই এই জিঘাংসার মেঘ কেটে যাবে। সুন্দর ও শান্তিময় আগামীর জন্য প্রতিহিংসা নয়, বরং প্রীতি ও প্রজ্ঞার আলোয় আমাদের পথ চলতে হবে!#

… লেখক একজন শিক্ষক কবি গবেষক ও প্রাবন্ধিক

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট