
নাজিম হাসান, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: রাজশাহী অঞ্চলে শিশুদের জন্য তৈরী করা ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের ভবনটি বর্তমানে তালাবদ্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে । ২০২৩ সালে মহানগরীর টিবিপুকুর এলাকায় ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখন হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যবস্থা শুরু হয়নি। এ অবস্থায় অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হতে বসেছে হাসপাতালের সমস্ত মালামাল। প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ হাসপাতালটির নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ব্যবহার না হওয়া এরই মধ্যে ভবনের রংও উঠতে শুরু করেছে। তবে এরআগে গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় একটি মহল ভবনটি দখলের চেষ্টা করেছিলেন। তবে ঠিকাদারদের লোকজনের বাধার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।
এদিকে,মেডিকেল কলেজ রামেক হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে যখন নিয়মিত শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে, তখন এই আধুনিক হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও জনবল সংকটের অজুহাতে ভবনটি অকেজো হয়ে পড়ে আছ। অপরদিকে,শিশু মৃত্যুরোধ, সহজলভ্য ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতে অবিলম্বে বিশেষায়িত রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু ও অতি সংক্রমক রোগ ‘হাম’ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, স্বাধীন ও স্থায়ী স্বাস্থ্য কমিশন গঠনসহ ৫ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর সিভিল সার্জন বরাবর পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
আজ রোববার (২৯ মার্চ) বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের পক্ষ থেকে বেলা ১২ টার সময় এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় রাজশাহীর সিভিল সার্জন এর পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবা খাতুন। স্মারকলিপির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, পরিচালক (স্বাস্থ্য), রাজশাহী, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় এর উপপরিচালক, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর পরিচালক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত শিশু রোগীর চাপ সামলাতে এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা চালু করতেই ২০১৬ সালে পলাতক আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে হাসপাতালের পাশেই শিশু হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু করেন। সেই কাজ শেষ হয় ২০২৩ সালের জুন মাসে।#