
# ফারুক নয়ন, বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জে যমুনেশ্বরী নদীতে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও হয়নি সেতু নির্মাণ।সেতু নির্মাণ না হওয়ায় উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাটে দুর্ভাগে পড়ছেন শিক্ষার্থী সহ হাজারো মানুষ। বদরগঞ্জ বাসীর দাবি মধুপুর খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ভোট এলে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। ক্ষমতায় বসার পর আর খোঁজখবর নেন না। আর আমরা ইউনিয়নবাসী বছরের পর বছর ভোগান্তিতে পড়ে আছি। যমুনেশ্বরী নদীটি পার হওয়ার একমাত্র ভরসা নৌকা’ নদীতে পানি কমে গেলে ভরসা তাদের বাঁশের সাঁকো।
এদিকে স্বাধীনের ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনও সরকারের আমলে নজরে আসেনি ওই স্থানে সেতুর নির্মাণের বিষয়টি। মিলেছে শুধু গালভরা প্রতিশ্রুতি। এলাকাবাসীর দাবি পুরন না হলেও অন্য দিকে বছরের পর বছর নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ফায়দা লুটছে একটি প্রভাবশালী চক্র, অন্যদিকে বর্ষায় নৌকা আর শুকনোয় বাঁশের সাঁকো দিয়ে ইজারাদারের হয়েছে পোয়াবারো।
মধুপুর ইউপির এহিয়াগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক আবু তাহের বলেন,২০০২ সাল থেকে নদী পারাপার হয়ে আসছি। নির্বাচন এলে প্রতিশ্রুতি দেন ব্রিজ হবে। জনপ্রতিনিধিরা ব্রিজ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ২৪ বছরেও কার্যকর হয়নি। আদো হবে কিনা জানিনা।
বদরগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, নদী পার হতে সময় লাগে। তাই ঘাটে সকাল সকাল আসতে হয়। না হলে স্কুলে পৌঁছেতে দেরি হয়। খাটে একটা সেতু নির্মাণ হলে আমরা সময় মত স্কুলে পৌঁছাতে পারবো। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় অনেক সমস্যা হয়। দ্রুত ঘাটে একটি নির্মাণের দাবি জানাই।
ঘাট ইজারাদার মাঝি আব্দুল লতিফ বলেন, প্রতি বছরে প্রায় ২ লক্ষ টাকায় ঘাটের ইজারা নিতে হয়, প্রতিদিন হাজার মানুষ এ ঘাট দিয়ে পারাপার হন। সপ্তাহে দুদিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার বদরগঞ্জ হাটবার। এই দুদিন অন্তত নৌকা দিয়ে ৩০ হাজার মানুষ পারাপার করেন। অনেক বছরে ঘাটে ইজারা নিয়ে মাঝি হিসেবে নিয়োজিত আছি। আমার মাঝি গিরির দরকার নাই, ইউনিয়নবাসীর উপকারের জন্য আমি এখানে সেতু নির্মাণের দাবি করছি।
স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক আক্ষেপ করে জানান, একটি সেতুর জন্য কয়েক গ্রামের জীবন ও অর্থনীতির চাকা থেমে আছে। বর্ষায় নৌকা আর শুকনায় বাঁশের সাঁকোয় চলাচল করতে হচ্ছে নদীর দু’পাড়ের হাজার হাজার মানুষকে। জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসের পাহাড় জমলেও হয়নি সেতু নির্মান।
উপজেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ বলেন, উপজেলায় বেশ কিছু নদীর উপরে সেতুর প্রয়োজন। মধুপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণের জন্য তিনটি প্রজেক্টে মাধ্যমে প্রস্তাবনা দেওয়া আছে। সেতু নির্মাণের বাজেট এলে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন।#