1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
  3. saykotrajshahi2@gmail.com : Shazaman :
ঈদে ভিক্ষা বৃত্তিতে নেমেছেন পেশাদার- অপেশাদার ভিক্ষুক, কাজে আসছেনা পুর্নবাসন কার্যক্রম - দৈনিক সবুজ নগর
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
বাংলাদেশের অর্থকরী সম্পদ চিংড়ি: ব্যাপক সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা রাজশাহীর বাগমারায় তীব্র গো-খাদ্য সংকট: টানা বর্ষণ ও মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা গৃহস্থ ও খামারিরা কুষ্টিয়ায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে চাচাতো ভাই গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় পাখিভ্যান ও টলির ধাক্কায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নিহত কুষ্টিয়ায় নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর খালের পানিতে মিলল প্রতিবন্ধী কিশোরের লাশ দফায় দফায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: ক্ষোভে ফুঁসছেন দেশের সাধারণ ভোক্তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগোচ্ছেন এমপি ফজলুল হক মিলন: শিক্ষা-স্বাস্থ্য-যোগাযোগে ব্যাপক উন্নয়ন পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একই দিনে বাগমারার ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু বাঘায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের বর্ষপূর্তি উদযাপন: ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান পদ্মা কলেজে ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা: রাজশাহীতে বিক্ষোভ, দোষীদের শাস্তির দাবি

ঈদে ভিক্ষা বৃত্তিতে নেমেছেন পেশাদার- অপেশাদার ভিক্ষুক, কাজে আসছেনা পুর্নবাসন কার্যক্রম

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ১৭২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

৥ বিশেষ প্রতিনিধি:  যেখানে মানুষের ভিড়, সেখানেই ভিক্ষুকদের জটলা। বাসাবাড়ি ছাড়াও মার্কেট, মসজিদ, মাজারের সামনে জড়ো হচ্ছেন তারা। সরকারি সুবিধা পান,এমন কেউ কেউ ভিক্ষায় নেমেছেন, ফিতরাসহ যাকাতের টাকা-পয়সা, শাড়ি কাপড় পাওয়ার আশায়। ছোট-বড় বিভিন্ন মার্কেট, অভিজাত এলাকা, বাস টার্মিনাল, বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাটেও দিন দিন এসব ভিক্ষুকের সংখ্যা বেড়ে গেছে। কাজে আসেনি ভিক্ষুক পুর্নবাসন কার্যক্রম। এমন চিত্র দেখা গেছে রাজশাহীর বাঘায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,ঈদে বিত্তবানদের দান খয়রাত টার্গেট করে তারা নেমেছেন ভিক্ষা বৃত্তিতে। তাদের কেউ পেশাদার কেউ অপেশাদার। এদের কারো স্বামী মারা গেছে, কারো স্বামী বেঁচে থাকলেও কর্মহীন হয়ে পড়ে রয়েছেন। তাদের কেউ থাকেন নিজের বাড়িতে, গুচ্ছগ্রামে। বহিরাগতরা রাত কাটান মাজারে কিংবা স্কুল কলেজের বারান্দায়।

সোমবার (১৬-০৩-২০২৬) সরেজমিন দেখা যায়, বাঘার ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ,মাজারের প্রবেশ পথের দুইধারে ভিক্ষৃুকদের সারি। এসব ভিক্ষৃুকদের অধিকাংশ নারি। অন্তত অর্ধশতাধিক ভিক্ষুকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের একেকজনের দৈনিক আয় ৩০০ টাকার কম বা বেশি। রমজান মাসে মানুষ দান খয়রাত বেশি করে বলে তাদের আয়ও বেশি হয়। তবে বেশিরভাগ ভিক্ষুক বলেছেন তারা সরকারি সুবিধা পান না। ঈদ সামনে রেখে সরকারের দেওয়া ভিজিএফ চাল না পাওয়ার কথাও বলেছেন কেউ কেউ।

বাঘা উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্তা সুফিয়া খাতুন জানান,নিজে সরকারি কোন সুবিধা পাননি। ৫বছর আগে গ্রামের এক মহিলাকে ৩হাজার ২০০শ’ টাকা দিয়ে তার মায়ের বয়স্ক ভাতা করিয়েছেন। তার এক ছেলে থাকলেও দেখভাল করেনা। হিজলপল্লী গ্রামের কাদের নামে এক ভিক্ষুক জানান,ভিজিএফ এর চাল দেওয়ার জন্য অনেকের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র নিলেও তারটা নেয় নি।

বহিরাগত ভিক্ষুক চারঘাট উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের র্ফিরোজা, হালেমা,রিজিয়া, লালপুর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের নজির মোল্লাসহ বাঘা উপজেলার জোতনশি গ্রামের রহিলা,হেলালপুর গ্রচ্ছ গ্রামের জায়েদা রসেনা,বানিয়া পাড়ার মালেকা, আলাইপুর গ্রামের মোকারুল,মীরগঞ্জের রিজিয়া, চন্ডিপুরের জাকাত, পাকুড়িয়ার রসুনা, চকছাতারির সপুরা ,হরিরামপুরের নুরমা, রুস্তমপুরের সকেনা, মাজেদা,খায়েরহাটের কহিনুর, চন্ডিপুরের মাজেদা,বারশত দিয়ারের নিলুফা, আলাইপুরের মালেকা, মহদিপুরের রোকেয়া, জোতনশির রহিলা ছাড়াও অনেক ভিক্ষুক বাঘায় আসেন ভিক্ষা করতে। মাজারে রাত কাটান রংপুরের সাবিনা,রেহেনা।

এদিকে,৫বছর আগে ভিক্ষাবৃত্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাঘা উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করে ভিক্ষুক পুর্নবাসনের কাজ শুরু করা হয়। প্রথমতঃ ৫০জন ভিক্ষুককে নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় অনেকেই ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়তে রাজি হননি। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেয়েছেন,তাদের তালিকা করে ২০২০ সালে ১৭ জুন ভিক্ষুক পুর্নূবাসন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৮ জন ভিক্ষুককে তৎকালিন সময়ের প্রধান মন্ত্রীর ভিক্ষুক পুর্নবাসন কার্যক্রমের আওতায় ছাগল, মুদি দোকান ,ভ্যানগাড়ি ও শেলাই মেশিন প্রদান করা হয়। কিন্ত এতেও ভিক্ষাবৃত্তি থেকে ফেরানো যায়নি।

স্বামীর সংসার থেকে বিছিন্ন হয়ে ভিক্ষায় নেমেছেন ৪৪ বছর বয়সের শেফালি খাতুন। ভিক্ষার টাকা জমিয়ে কয়েক বছর আগে মসজিদে ৪০ হাজার টাকা দানও করেছেন। কথা বললে তিনি জানান, নিজের খরচ করে যা বাঁচে,সেই টাকা জমিয়ে মসজিদে দান করেছেন। এবারও তার ইচ্ছা ভিক্ষার টাকা জমিয়ে,মাদরাসা ও এতিমখানায় দান করবেন । ১ কাঠা জমির উপর টিন সেটের আধা পাঁকা ঘর রয়েছে তার। সরকারি সুবিধ পান প্রতিবন্ধী ভাতা ।

স্থানীয় আব্দুল হালিম জানান, ঈদকে সামনে রেখে পেশাদার-অপেশাদার বহু মানুষ ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিয়েছে। যার কারণে অন্য সময়ের তুলনায় ভিক্ষুকের সংখ্যা দ্বিগুন বেড়েছে ।

বাজু বাঘা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বেঁচে থাকার তাগিদে দারিদ্র, পারিবারিক অবহেলা, মনস্থাত্বিক কারণেই মানুষ ভিক্ষাবৃত্তি গ্রহণ করে থাকে। তবে ভিক্ষার নামে অত্যাচার অনেকাংশে বিরক্তিকর।’

উপজেলা নির্বাহি অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন,উপজেলায় ভিক্ষুক পূর্নবাসনের বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। তবে সরকারের ভিক্ষুক পুর্নবাসনের চেষ্টা যাতে অব্যাহত থাকে,সেটি বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করবেন। #

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট