
# সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহার উপজেলার একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে চাকরি হারানোর অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার এই বিষয়টি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
চাকরি হারানো ওই ব্যক্তির অভিযোগ, বিএনপির পক্ষে প্রচারণা চালানো এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপে মসজিদ কমিটি তাঁকে দায়িত্ব থেকে বাদ দিয়েছে। ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির নাম আল আমিন চৌধুরী। তিনি সাপাহার উপজেলা সদরের তালপুকুর মাস্টারপাড়া জামে মসজিদে গত ৪ বছর ধরে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
হাফেজ আল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি দীর্ঘ সময় ধরে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় এবং বিএনপির পক্ষে কাজ করায় মসজিদ কমিটি আমাকে বারবার রাজনীতি ছাড়তে চাপ দিচ্ছিল। স্থানীয় কিছু ব্যক্তির চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত কমিটি আমাকে চাকরি থেকে বাদ দিয়েছে।
’তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি করার অজুহাতে আমাকে বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা আগে থেকেই চলছিল। এর সাথে যোগ হয় মসজিদের সামনে থেকে ছাত্র দল নেতা রকির একটি দোকান উচ্ছেদের প্রতিবাদ করা। গত সোমবার রাতে মসজিদের সামনের একটি দোকান ঘর উচ্ছেদ করার সময় আমি দোকানদারকে মালামাল সরিয়ে নিতে সামান্য সময় দেওয়ার অনুরোধ করি। এতে মসজিদের কমিটির সভাপতি এলাহী বক্সসহ অন্যরা আমার ওপর ভীষণ ক্ষিপ্ত হন এবং আমাকে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দেন। মূলত রাজনীতি করাই আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি এলাহী বকস বলেন, ‘মসজিদের ইমাম বা মুয়াজ্জিন হয়ে সক্রিয় রাজনীতি করা সাধারণ মুসল্লিরা পছন্দ করেন না। একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে তাঁর বিশেষ পক্ষপাতিত্ব নিয়ে অনেকের মনেই আপত্তি ছিল। এছাড়া মসজিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সামনের একটি দোকান উচ্ছেদের সময় তিনি কমিটির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ওই দোকানদারের পক্ষে অবস্থান নেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণেই তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’