
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ক্যাডার হিসেবে অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তিকে স্বপদে বহাল করা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এসব কর্মকর্তার অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ৯২ তম সিন্ডিকেটের বিতর্কিত নিয়োগের মাধ্যমে নিয়োগ পান , জুলাই হামলা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ার পর জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি করে জুলাই মাসে তাদের স্বপদে বহাল করা হয়েছে শুধু বহাল নয় প্রমোশনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে রুয়েট প্রশাসনের পক্ষ থেকে । রাইসুল ইসলাম রোজ ২০০৮-২০০৯ সেশনের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ রুয়েট শাখার সভাপতি ছিলেন। সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে রুয়েটের আবাসিক হলে শিক্ষার্থী নির্যাতন চুরি ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে বিতর্কিত নিয়োগের মাধ্যমে তিনি রুয়েটের গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরে সেকশন অফিসার হিসেবে কর্মরত হন। ৫ আগস্টের দিন ছাত্রজনতার উপর হামলায় অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় ফৌজদারি মামলা আছে। মামলার পর দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পর সম্প্রতি রুয়েট রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তার যোগদানের বিষয়ে বলা হয়েছে।
৫৫৭০নং স্মারক সংবলিত বিজ্ঞপ্তিতে “কর্তব্য-কর্মে যোগদান প্রসংগে” শিরোনামে রাইসুল ইসলামের পুনরায় স্বীয় পদে কর্মস্থলে যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শুধু রাইসুল ইসলাম রোজ ছাড়াও, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর এখনও স্বপদে বহাল রয়েছে বর্তমানে তিনি মামলার আসামি হওয়ার পরও রুয়েটের নিরাপত্তা শাখার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি । বোয়ালিয়া থানার মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মামুন-অর-রশিদ। মামুন-অর-রশিদ দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০-১১ সেশনের ছাত্র ছিলেন। তিনি তখন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। গত ৫ আগস্ট রাজশাহীর আলুপট্টি মোড়ে ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় রুয়েটের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীর সাথে অভিযুক্তদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে ।
মামুন ও রোজের রুয়েটের ক্ষমতার উৎস বলতে অনুসন্ধানে জানা যায় রুয়েট ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরিফ চৌধুরী । বর্তমানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রুয়েট নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের দোসর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরিফ আহম্মেদ চৌধুরীর ইশারায় । আরিফ চৌধুরী বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় রুয়েটের একজন দাপুটে কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত সে ক্ষমতার দাপটে রুয়েটের অফিসার সমিতি ভেঙ্গে গঠন করেন কর্মকর্তা সমিতি। উক্ত সমিতির সভাপতির পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেন । ছাত্র জনতার হামলার সাথে সরাসরি জড়িত রুয়েটের কর্মচারী ও কর্মকর্তা এখনও দাপুটের সাথে রুয়েটে চাকুরী করছেন। আরিফ চৌধুরীর ক্ষমতার দাপুটে শুধু তাই নয় রুয়েটের নিরাপওার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের হাতে ।
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ রুয়েট শাখার সভাপতি রাইসুল ইসলাম ও মামুন-অর-রশিদ রুয়েট ফ্যাসিস্ট রেজিস্ট্রারের ঠিকাদারি ও নিয়োগ বানিজ্যর সিন্ডিকেট রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) কর্মকর্তা কর্মকর্তা সমিতির নেতৃত্বের দায়িত্বে ছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রুয়েটে ফ্যাসিস্ট রেজিস্ট্রারের ক্ষমতার উৎস বলতে বুঝায় রফিকুল ইসলাম সেখের ঠিকাদারি ও নিয়োগ বানিজ্যর সিন্ডিকেট । অভিযুক্ত ব্যক্তিদের স্বপদে বহালের বিষয় জানতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরিফ আহম্মেদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হইলে তিনি অস্বীকার করেন।