রাজশাহীর তানোর সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে পুকুরচুরি, কাংখিত লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না
-
প্রকাশের সময় :
মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২
-
২১৯
বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
# মমিনুল ইসলাম মুন, বরেন্দ্র অঞ্চল প্রতিনিধি …………………………..
রাজশাহীর তানোর পৌরসভায় সৌরবিদ্যুৎ চালিত সড়ক বাতি স্থাপনে নজিরবিহীন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, মেয়র-ঠিকারদার-প্রকৌশলী মিলেমিশে লুটপাট করেছে, সরেজমিন তদন্ত করলেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।
এদিকে গত ৯ ফেব্রুয়ারী বুধবার প্রকল্প এলাকা সরেজমিন তদন্তপুর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রায় অর্ধশতাধিক নাগরিকের স্বাক্ষর সংবলিত লিখিত অভিযোগ ডাকযোগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সাংসদ ও রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষ সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গ্রীণ হাউস গ্যাস কমানোর লক্ষ্য তানোর পৌর এলাকায় সৌর বিদ্যুৎ চালিত সড়ক বাতি স্থাপন প্রকল্প cctf/jam-2020-2021/1 হাতে নেয়া হয়। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট (bcct) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু, পরির্বত ন্ত্রণালযের অর্থায়নে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সামটেক এনার্জি লিমিটেড ঢাকা’র মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে তানোর পৌরসভা। তানোর পৌরসভায় ৭৪টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত সড়ক বাতি স্থাপনে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ৯৮ লাখ ৭৯ হাজর টাকা। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করা হয় ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার ৩০০ টাকা।
মোট ১৮০ কার্যদিবসের মধ্য প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয় এবং ২০২১ সালের ৬ মে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন করা হয়।পৌরসভার রাস্তাঘাট, হাট-বাজার ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৪টি সোরবিদ্যুৎ চালিত সড়ক বাতি স্থাপন করা হয়েছে। তবে নাগরিকগণের অভিযোগ বাস্তবে এর অর্ধেকও নাই এবং সৌরবিদ্যুৎ চালিত সড়ক বাতি স্থাপনে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম-দুর্নীতি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাউন্সিলর বলেন, প্রতিটি সড়ক বাতি স্থাপনে প্রায় লাখ টাকার উপরে বরাদ্দ দেখানো হলেও যে সড়ক বাতি স্থাপন করা হয়েছে তার বাজার মুল্য সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা।তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনীয় দেখভালের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা সৌর বিদ্যুৎ চালিত সড়ক বাতির, কোথাও কোথাও জ্বলছে না আলো। কোথাও স্বজনপ্রীতি করে মেয়রের ঘনিষ্ঠ এবং বিত্তশালীদের উঠানে বসানো হয়েছে সোলার লাইট। আর তিন বছর পর্যন্ত দেখভালের কথা থাকলেও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নাগরিকগণ অভিযোগ তুলে বলছে, এতে সরকারের প্রায় কোটি টাকা জলে গেছে।
এবিষয়ে তানোর পৌর মেয়র ইমরুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যারা এলাকার উন্নয়ন চাই না, তারা এসব অপপ্রচার করছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বলেন, শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সড়ক বাতি প্রকল্প সম্পন্ন করা হয়েছে অনিয়মের কোনো সুযোগ নাই। তিনি আরো বলেন, তিন বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টির মধ্যে লাইটে কোনো ত্রুটি হলে আমরা সংশোধন করে দিই। অভিযোগ পেলে নিয়ম অনুযায়ী সৌরবাতিগুলো সচল করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর রাশেল সরকার উত্তম বলেন, সড়ক বাতি প্রকল্প দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদুক) সরেজমিন তদন্ত করা প্রয়োজন।#
আরজা/০৯
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ