
সাব্বির আলম বাবু, ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার জেলার বিচ্ছিন্ন উপজেলা মনপুরায় মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অর্থের বিনিময়ে নদীতে মাছ শিকারের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে এক মৎস্য কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্যের অডিও ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন এবং তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিटीকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বোরহানউদ্দিন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার সাহাকে প্রধান করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন—ভোলা সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া এবং তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমির হোসেন।
সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অর্থের বিনিময়ে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে মনপুরা উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা এবং মৎস্য ব্যবসায়ী ও উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব হাফেজ আবদুর রহিম-এর মধ্যকার একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখাকে আবদুর রহিমের কাছে বকেয়া টাকা দাবি করতে এবং টাকা না দিলে ট্রলারে আগুন দেওয়ার হুমকি দিতে শোনা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, কথোপকথনে আবদুর রহিমকে ৪৫ হাজার টাকা লেনদেনের কথা উল্লেখ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অনুরোধ করতে শোনা যায়।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবার নজরে এসেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#