
নাজিম হাসান, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজারের স্বর্ণপট্টিতে অবস্থিত ‘কারুশ্রী জুয়েলার্স’-এ দেয়াল কেটে আনুমানিক ২০০ ভরি স্বর্ণ, রূপা ও নগদ অর্থ চুরির ঘটনায় মূল চক্রের সাত সদস্যসহ চোরাই মালামাল কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের টানা অভিযানে খুলনা ও ঢাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই স্বর্ণ কেনার অপরাধে রবিউল হাসান (৪৫) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার বড়নীখোলা গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে। তাঁর কাছ থেকে চুরির ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রূপা এবং চোরাই মালামাল বিক্রির নগদ ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
চুরির অভিনব কৌশল ও পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গাজিউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ১৯ জুন ভোরে ১০ থেকে ১২ জনের একটি চোর চক্র সাহেববাজারে কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে আসে। তারা হকার সেজে বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রির দোকান বসিয়ে সেখানে কৃত্রিম জটলা তৈরি করে। এরপর পাশের একটি দোকানের তালা খুলে ভেতরে ঢোকে এবং সেখান থেকে কারুশ্রী জুয়েলার্সের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। চোর চক্রটি সিন্দুক থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ, রূপা ও নগদ টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় জুয়েলার্সের মালিক তুর্য সরকার বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করলে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নির্দেশে তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসি ক্যামেরা ইউনিটের যৌথ প্রচেষ্টায় তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়।
পেশাদার ও ধুরন্ধর চোর চক্র পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই চক্রটি অত্যন্ত ধুরন্ধর ও সুসংগঠিত। তারা বছরে এক বা দুটি বড় ধরনের চুরি করে এবং চুরির ৩-৪ মাস আগে থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণ (রেকি) করে। কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরির চক্রান্ত হিসেবে তারা চার মাস আগে রাজশাহীর বিভিন্ন হোটেলে উঠে ব্যবসায়ী পরিচয়ে এলাকা পরিদর্শন করেছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা একবারের বেশি একটি মোবাইল সিম ব্যবহার করত না এবং অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করত।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয় অভিযানের ধারাবাহিকতায় খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বাগেরহাটের মোংলা থানার মো. রুস্তম আলী শেখকে (৬৪)। পরবর্তীতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়:
স্বপন (৬২) – মাধবপুরা, ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর
উজ্জল (৩৭) – মাধবপুরা, ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর
রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন (৩৯) – মাধবপুরা, ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর
ইউনুস (৪৫) – মাধবপুরা, ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর
আবু তালেব (৪৫) – খোন্তাকাটা, শরণখোলা, বাগেরহাট
মো. কালাম শেখ (৪৮) – পূর্ব খোন্তাকাটা, শরণখোলা, বাগেরহাট
গ্রেপ্তারকৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল হাসান অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে পুলিশ পাহারায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধার না হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধার এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে আরএমপির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসামিদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।#