
সবুজনগর ডেস্ক: সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে একটি জাতির স্বকীয়তা নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হয় উল্লেখ করে তা মোকাবিলায় তরুণদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে মরমি সাধক ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ‘কালচার ফর ইউনিটি বাংলাদেশ’।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক কাজী জেসিন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আমাদের ওপর নানাভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করা হবে। তবে আমাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার মূল গ্যারান্টি হলো নিজস্ব কৃষ্টি, লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গভীর চর্চা ও অনুশীলন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস বিশ্বে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।”
বিদায়ী সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “গত ১৬-১৭ বছরে দেশকে একমুখী করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে বাস্তবে অন্য দেশের দাসত্ব করা হয়েছে এবং দেশের সিনেমা হলে অন্য দেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হয়েছে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজ এটি স্পষ্ট করেছে যে, তারা দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় জেগে উঠেছে।”
বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও বাউল দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “ফকির লালন শাহ্ ও মুকুন্দরামের মতো মরমি সাধকদের চিন্তায় মানবতাবাদী দর্শন প্রকাশ পেয়েছে। তারা সহজ ভাষায় মানুষের মর্যাদা ও অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে গেছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য-সংগীতেও এই লোকজ ধারার গভীর প্রভাব রয়েছে। এমনকি আমাদের জাতীয় সংগীতেও রয়েছে বাউল সুরের ছোঁয়া। তাই জাতীয় অগ্রগতি ও চেতনা রক্ষায় এই মানবতাবাদী ধারার চর্চা বাড়াতে হবে।#