
স্টাফ রিপোর্টার, শিবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে সিঅ্যান্ডএফ (C&F) এজেন্ট ও কর্মচারীদের ডাকা টানা তিন দিনের কর্মবিরতি অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সমঝোতা পৌঁছালে কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়। বৈঠক শেষে রাতেই বন্দরে স্থবির হয়ে পড়া পণ্য খালাস কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।
সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন ইতি জানান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিন পূর্বের নিয়মেই বন্দরের অভ্যন্তরীণ বাধ্যবাধকতা ছাড়া পণ্য খালাস চলবে। পাশাপাশি কোনো কারণ ছাড়া কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করা এবং অভিযুক্ত কাস্টমস সুপারকে সোনামসজিদ বন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাসে তারা কর্মবিরতি তুলে নেন।
একই দাবির প্রেক্ষাপটে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বলেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। এর আগে গত ৩ নভেম্বর থেকে কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অহেতুক ফাইল আটকে রাখা, অন্যায্য জরিমানা আদায়, পাস কার্ড বাজেয়াপ্ত এবং তুচ্ছ অজুহাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টির প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মচারীরা।
এদিকে তিন দিনের এই কর্মবিরতির ফলে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চরম পণ্যজট সৃষ্টি হয়। বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড’-এর অপারেশন ম্যানেজার কামাল হোসেন জানান, বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় এবং জায়গার অভাব দেখা দেওয়ায় দুপুরে ভারত থেকে নতুন ট্রাক প্রবেশ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়। তবে সন্ধ্যায় কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর আটকে থাকা ট্রাকগুলোর আনলোডিং ও খালাস কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সোনামসজিদ কাস্টমস কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মাসুদ রানার সঙ্গে মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।#